ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

আইজেনকোটের সামনে কী চ্যালেঞ্জ, অন্য চেহারার ইসরায়েলকে দেখা যাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দেশটির নতুন সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে এই সময়সীমা আরও সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু, আর দুজনেই ব্যর্থ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর মতো ডানপন্থি নীতির সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করা আইজেনকোটের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকারের বাইরে থাকা আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে হলে তাকে বিরোধী জোটের কট্টর ডানপন্থি অংশকেও রাজি করাতে হবে। এছাড়া নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র কট্টরপন্থি ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টির সমর্থন পেতে হলে তাকে সামরিক বাহিনীতে কট্টরপন্থি তরুণদের আইনি সুরক্ষা অব্যাহত রাখার শর্ত মানতে হতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন পেলেও আইজেনকোটকে ফিলিস্তিন জনপদ ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিস্তিনি ভোটারদের ওপর নির্ভর না করে কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গেই তিনি সমঝোতা করতে বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন আইনসভার এক বামপন্থি সদস্য। অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধ ও ইরানে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাও তার জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কূটকৌশল ও ছলচাতুরীর প্রবণতা আইজেনকোটের মধ্যে তুলনামূলক কম থাকায় তাকে ভিন্ন ধারার নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের ব্যক্তিগত জীবন ও সরল চালচলন নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশ আলাদা। যুদ্ধকালীন ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তার ভাবমূর্তি ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের হাত ধরে ইসরায়েলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো নতুন রূপ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।

জনপ্রিয়

আইজেনকোটের সামনে কী চ্যালেঞ্জ, অন্য চেহারার ইসরায়েলকে দেখা যাবে?

আইজেনকোটের সামনে কী চ্যালেঞ্জ, অন্য চেহারার ইসরায়েলকে দেখা যাবে?

প্রকাশিত ০২:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দেশটির নতুন সরকার গঠনের জন্য সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে এই সময়সীমা আরও সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু, আর দুজনেই ব্যর্থ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর মতো ডানপন্থি নীতির সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করা আইজেনকোটের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকারের বাইরে থাকা আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে হলে তাকে বিরোধী জোটের কট্টর ডানপন্থি অংশকেও রাজি করাতে হবে। এছাড়া নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র কট্টরপন্থি ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পার্টির সমর্থন পেতে হলে তাকে সামরিক বাহিনীতে কট্টরপন্থি তরুণদের আইনি সুরক্ষা অব্যাহত রাখার শর্ত মানতে হতে পারে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন পেলেও আইজেনকোটকে ফিলিস্তিন জনপদ ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিস্তিনি ভোটারদের ওপর নির্ভর না করে কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গেই তিনি সমঝোতা করতে বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন আইনসভার এক বামপন্থি সদস্য। অন্যদিকে, গাজা যুদ্ধ ও ইরানে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাও তার জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কূটকৌশল ও ছলচাতুরীর প্রবণতা আইজেনকোটের মধ্যে তুলনামূলক কম থাকায় তাকে ভিন্ন ধারার নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটের ব্যক্তিগত জীবন ও সরল চালচলন নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশ আলাদা। যুদ্ধকালীন ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তার ভাবমূর্তি ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের হাত ধরে ইসরায়েলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো নতুন রূপ দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।