ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

যাদুকাটায় ২৩ কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ, বিশেষ অনুমতিতে একক নিয়ন্ত্রণ

অপরাধ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহাল উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিশেষ অনুমতিতে এক স্থানীয় বিএনপি নেতার নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি রাজস্বের ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে একাধিক বৈঠকের অডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। তবে এই অর্থ লেনদেন বা এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আদালতের জটিলতা ও প্রশাসনের খাস আদায়ের উদ্যোগের পরও শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদেশে এই মহালের দখল পান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নাছির মিয়া।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগের মেয়াদে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা ও ইজারার মেয়াদ শেষের দোহাই দিয়ে আদালতে রিট করেছিলেন সাবেক ইজারাদাররা। কিন্তু হাইকোর্টে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি টেকেনি এবং জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধের বিজ্ঞপ্তি দেয়। পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে নাছির মিয়াকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, ঢাকা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত কয়েকটি গোপন বৈঠকের রেকর্ডে ৪২ কোটি টাকার বড় একটি অংশ ভাগাভাগি এবং এক ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা পৌঁছানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ইজারাদার নাছির মিয়া ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। প্রশাসনের দাবি, তারা কেবল ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা মেনেই দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে এই ইজারা প্রক্রিয়া ও অর্থ ভাগের অভিযোগের পাশাপাশি যাদুকাটা নদীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ও যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী বসতি, সেতু এবং শিমুলবাগান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবেশ সুরক্ষা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত না হলে যাদুকাটার সম্পদ লুণ্ঠনের শঙ্কা থেকেই যায়।

জনপ্রিয়

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স

যাদুকাটায় ২৩ কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ, বিশেষ অনুমতিতে একক নিয়ন্ত্রণ

প্রকাশিত ১১:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহাল উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিশেষ অনুমতিতে এক স্থানীয় বিএনপি নেতার নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি রাজস্বের ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে একাধিক বৈঠকের অডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। তবে এই অর্থ লেনদেন বা এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। আদালতের জটিলতা ও প্রশাসনের খাস আদায়ের উদ্যোগের পরও শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদেশে এই মহালের দখল পান স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা নাছির মিয়া।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগের মেয়াদে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা ও ইজারার মেয়াদ শেষের দোহাই দিয়ে আদালতে রিট করেছিলেন সাবেক ইজারাদাররা। কিন্তু হাইকোর্টে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি টেকেনি এবং জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধের বিজ্ঞপ্তি দেয়। পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে নাছির মিয়াকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, ঢাকা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত কয়েকটি গোপন বৈঠকের রেকর্ডে ৪২ কোটি টাকার বড় একটি অংশ ভাগাভাগি এবং এক ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা পৌঁছানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ইজারাদার নাছির মিয়া ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। প্রশাসনের দাবি, তারা কেবল ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা মেনেই দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে এই ইজারা প্রক্রিয়া ও অর্থ ভাগের অভিযোগের পাশাপাশি যাদুকাটা নদীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ও যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী বসতি, সেতু এবং শিমুলবাগান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবেশ সুরক্ষা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত না হলে যাদুকাটার সম্পদ লুণ্ঠনের শঙ্কা থেকেই যায়।