ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে বর্তমান অর্থবছরেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাস সাত দিনে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত নিয়মিত তথ্যে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই অংক প্রায় ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের প্রথম সাত দিনেই দেশে ৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই পরিমাণ গত বছরের নভেম্বরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এর আগে গত অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। এছাড়া জুলাই ও আগস্ট মাসেও যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ও ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে এই রেমিটেন্স প্রবাহ বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। বর্তমান সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিতভাবে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ বাড়াতেও সরাসরি সহায়তা করছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বা আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এই বিল পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান এই তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকা আবশ্যক।

জনপ্রিয়

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স

প্রকাশিত ১২:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে বর্তমান অর্থবছরেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাস সাত দিনে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত নিয়মিত তথ্যে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই অংক প্রায় ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের প্রথম সাত দিনেই দেশে ৮৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই পরিমাণ গত বছরের নভেম্বরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এর আগে গত অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। এছাড়া জুলাই ও আগস্ট মাসেও যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ও ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে এই রেমিটেন্স প্রবাহ বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। বর্তমান সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিতভাবে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ বাড়াতেও সরাসরি সহায়তা করছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বা আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এই বিল পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান এই তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকা আবশ্যক।