ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টারিং ও অপপ্রচার: আটক ছাত্রলীগের এক নেতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো ও এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁর মুঠোফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের ও জাকসুর সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর এলাকায় তাঁর মায়ের দোকান থেকে সাইফুল ইসলাম (২৬) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সাইফুল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর মা নাসিমা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাইফুল ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগাতেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেন। তাঁর ফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তাঁদের।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার গণ অধিকার পরিষদের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী অধিকার পরিষদের নেত্রী শারমিন আক্তার সাথীর ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুলের বিরুদ্ধে।

শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। শারমিন বলেন, র‍্যালিতে নারী অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে তাঁকে ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

শারমিনের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠীদের নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কথা বলেন। পরে ফোন পরীক্ষা করে তাঁর আইডিতে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দামের সঙ্গে ছবি পাওয়া যায়।

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, সাইফুলের ফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ক্যাম্পাসে পোস্টারিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ফেসবুক আইডিতে জাকসুর সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবর বলেন, “সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার জয় বলেন, অভিযুক্তের ফোনে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ফোনটি জব্দ করে তাঁকে থানায় নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী জানান, অভিযুক্তকে আটক করার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে আশুলিয়া থানার পুলিশ তাঁকে ও তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফোন পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। এখনো মামলা হয়নি।

জনপ্রিয়

১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রেমিটেন্স

জাবিতে ছাত্রলীগের পোস্টারিং ও অপপ্রচার: আটক ছাত্রলীগের এক নেতা

প্রকাশিত ১১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো ও এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁর মুঠোফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের ও জাকসুর সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর এলাকায় তাঁর মায়ের দোকান থেকে সাইফুল ইসলাম (২৬) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সাইফুল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর মা নাসিমা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সাইফুল ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগাতেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেন। তাঁর ফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তাঁদের।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার গণ অধিকার পরিষদের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী অধিকার পরিষদের নেত্রী শারমিন আক্তার সাথীর ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুলের বিরুদ্ধে।

শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। শারমিন বলেন, র‍্যালিতে নারী অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে তাঁকে ও গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

শারমিনের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠীদের নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কথা বলেন। পরে ফোন পরীক্ষা করে তাঁর আইডিতে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দামের সঙ্গে ছবি পাওয়া যায়।

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, সাইফুলের ফোনে ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ক্যাম্পাসে পোস্টারিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ফেসবুক আইডিতে জাকসুর সাবেক ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাবর বলেন, “সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার জয় বলেন, অভিযুক্তের ফোনে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ফোনটি জব্দ করে তাঁকে থানায় নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী জানান, অভিযুক্তকে আটক করার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে আশুলিয়া থানার পুলিশ তাঁকে ও তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফোন পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। এখনো মামলা হয়নি।