ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪ ও ৩৭ থেকে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ সংসদীয় আসন। ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার এই আসনে নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী, নেতা ও আদি ঢাকাই ভোটাররা।
এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বাড়িঘর ও দোকানপাট, ঘিঞ্জি গলিতে অবস্থিত কারখানা ও গোডাউনের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, সরু সড়কে তীব্র যানজট এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ফলে জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন ঢাকা-৬ আসনের মানুষ।
গত কয়েকদিন সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট আসনটিতে ঘুরে ভোটারদের প্রত্যাশা, নাগরিক সংকট ও প্রার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন অভিযাত্রার স্টাফ রিপোর্টার মো: ইমরান হোসেন
সূত্রাপুরের বাসিন্দা ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় গ্যাস ও পানির সমস্যা আছে, জলাবদ্ধতা আছে। আমরা নিরাপদ জীবন চাই। ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদভাবে ব্যবসা করতে পারে, সেটাও জরুরি।”
নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস খোলা হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করছেন, লিফলেট বিতরণ করছেন।
গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা আরিফ বলেন, “ব্যবসা কিংবা নাগরিক সুবিধা পেতে গেলে দুর্নীতির শিকার হতে হয়। এলাকায় বর্তমানে গ্যাসের সংকট প্রকট এ সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত হতে চাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো নয়। আমরা আশা করি নির্বাচনের পর এসব সমস্যার সমাধান হবে।”
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। মাইকিং, মিছিল এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ছে। তবে পোস্টার না থাকায় এবারের নির্বাচন কিছুটা ব্যতিক্রম বলে মনে করছেন অনেকে।
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান তুলনামূলকভাবে পরিচিত মুখ। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর ও স্বাধীন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি তার আসনের অবস্থানরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সংকট গুলো নিয়ে কাজ করবেন।
ইশরাক হোসেন জানান, সূত্রাপুর ও কোতোয়ালী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও গত ১৭ বছরে অঞ্চলটি পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত হয়েছে। বিগত মেয়র তাপসের আমলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি; উন্নয়নের নামে কেবল নেতা-কর্মীদের স্বার্থই রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা তীব্র গ্যাস সংকট, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পাশাপাশি গ্যাস, রেডিক্স সিস্টেম, স্যুয়ারেজ, ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাটসহ সার্বিক অবকাঠামো চরমভাবে নাজুক। বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি, ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম গ্যাস সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেবেন এবং পর্যায়ক্রমে ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন। এছাড়াও দলের ৩১ দফার আলোকে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চান।” নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও জানান।
জামায়াত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান বলেন, এই এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিতে কাজ করবেন। বিগত সময়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তা নিশ্চিততে ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাত গ্যাস সংকট ও ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
জয় পরাজয় আল্লাহ নির্ধারণ করবেন। জনগণ এখানে ভোট দিবেন। যে জিতুক আমরা একসাথে কাজ করবো। এখানে ভেদাভেদ হানাহানির রাজনীতি হবে না। সারা বাংলাদেশে কি হবে আমরা জানি না। ঢাকা ৬ আসনে একটা ইতিহাস হবে ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা-৬ আসনকে ‘চাঁদাবাজমুক্ত’ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, গ্যাস সংকট দূর করা, মাদক নির্মূল ও দুর্নীতি বন্ধে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইউনুস আলী আকন্দ এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. ফখরুল ইসলাম।
























