বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পাস রাজনীতির বাস্তব চিত্র প্রায় সময়ই তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনগুলো অতীতে গেস্টরুম সংস্কৃতি, চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি নির্যাতন সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল । রাজনীতি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বদলে দলীয় স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বহুবার।
কিন্তু এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করার মতো নয় যে ক্যাম্পাস রাজনীতি যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীবান্ধব হয়, তাহলে এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সবচেয়ে শক্তিশালী কারখানা হয়ে দাঁড়াবে ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ( বাকৃবি ) ছাত্র দলের যুগ্ম আহবায়ক মেজবাউল হক মিজু তার মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে জানান , বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে — পরিবহন সমস্যা থেকে শুরু করে ক্লাসরুমের সুযোগ-সুবিধা পর্যন্ত — সংগঠিত নেতৃত্বই একমাত্র কার্যকর পথ। প্রশাসন যেন কর্তৃত্বপরায়ণ না হয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের উপস্থিতি অপরিহার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান — প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে ছাত্ররাজনীতি জাতিকে পথ দেখিয়েছে।
একটি শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন , ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয় ছিল।
তিনি আরও বলেন , ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরে সংগঠনের পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অসংখ্য নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের ওয়াসিম, মানিকগঞ্জের রাকিব, গাজীপুরের হৃদয়, সাভারের সাদসহ ১৪২ জন নেতাকর্মী দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।
বাকৃবিতে সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন , বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পরিবহন সংকট সমাধান, খাবারের মান নিশ্চিতকরণ, সিট সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, হেলথ ইন্স্যুরেন্স চালু, স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি, রেলস্টেশন চালু এবং বৃক্ষনিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াসহ নানা শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন , ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে — গেস্টরুম সংস্কৃতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তার বিবৃতিতে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন । কারিগরি ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপ্রয়োজনীয় মিছিল-মিটিং পরিহার করে সেমিনার, গবেষণা উপস্থাপনা, বিতর্ক এবং ভাষা শিক্ষার কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি ।
সর্বোপরি সব ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন , ঘৃণা ও বিভেদের রাজনীতি ছেড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে — অন্যথায় জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের কাছে জাতি দায়বদ্ধ থাকবে।



















