পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রবিবার (৭ জুন) সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলম। তিনি সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, পরিবেশ ও জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট সকল উন্নয়ন কার্যক্রমে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সনাক সদস্য নাসিমা বেগম, মো. মিজানুর রহমান লিটু, রতনা বর্ধন, ইয়েস সদস্য ফারজানা আক্তার আরিফা, এসিজি সদস্য নির্মল চন্দ্র রায় এবং টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটরসহ অন্যান্য বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। নদীভাঙন, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া জলাভূমি দখল, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় কর্মসূচিতে টিআইবির পক্ষ থেকে পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিবেশ আদালত আইন সংশোধন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, জলাভূমি ও বনভূমি সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।





















