ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিজমেকার Logo নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের সংঘর্ষ, ম্যাচের আগে উত্তেজনা Logo আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে জিতবে কে, জানিয়ে দিলো সুপার কম্পিউটার Logo মাত্র ১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হলেন রুবায়েত সরদার Logo আর্জেন্টিনার সমর্থককে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানোয় থানায় অভিযোগ Logo প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চলছে বিয়ের প্রস্তুতি Logo প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে চীনা যুবকের ‘হুলুস্থুল কাণ্ড’ Logo কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo অনলাইনে হাজিরা দিতে গাছের মাথায় শিক্ষক Logo প্রথম ম্যাচেই ৫ গোল হজম, চাকরি হারালেন তিউনিসিয়ার হেড কোচ

মাত্র ১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হলেন রুবায়েত সরদার

মাত্র ১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হলেন রুবায়েত সরদার

মাত্র ১২ বছর বয়সেই পবিত্র কোরআন শরীফ সম্পূর্ণ মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রুবায়েত সরদার। একই কৃতিত্ব দেখিয়েছে ১৩ বছর বয়সী মৃদুল ইসলাম। অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্র সাধনার মাধ্যমে তারা কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসায় নবীন দুই হাফেজের সম্মানে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় তাদের বরণ করে নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মৃদুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলার বাড়ৈপাড়া এলাকার রুবেল হাওলাদার ও মাহিনূর বেগম দম্পতির ছেলে। অপরদিকে রুবায়েত সরদার গোলারবাজার এলাকার আমিনুল হক তপন ও আয়েশা খানম দম্পতির সন্তান।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল দুই শিক্ষার্থীর। কায়দা, আমপারা ও নাজেরা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তারা হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা সফলভাবে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।

হাফেজ মৃদুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশের মানুষের খেদমত করতে চাই।”

হাফেজ রুবায়েত সরদার বলেন, “বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি শুধু হাফেজ হয়েই থেমে থাকতে চাই না, ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

ছেলেদের এমন অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরাও। মৃদুলের মা মাহিনূর বেগম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেজ বানানোর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। এখন চাই, সে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার প্রধান অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুস ছাত্তার খান জানান, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৯৯ জন ছেলে ও দুইজন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু কোরআন মুখস্থ করানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করছি। আশা করি, এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আলেম ও মাওলানা হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জনপ্রিয়

যবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিজমেকার

মাত্র ১২ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হলেন রুবায়েত সরদার

প্রকাশিত ১২:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মাত্র ১২ বছর বয়সেই পবিত্র কোরআন শরীফ সম্পূর্ণ মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রুবায়েত সরদার। একই কৃতিত্ব দেখিয়েছে ১৩ বছর বয়সী মৃদুল ইসলাম। অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্র সাধনার মাধ্যমে তারা কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসায় নবীন দুই হাফেজের সম্মানে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় তাদের বরণ করে নেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মৃদুল ইসলাম নড়িয়া উপজেলার বাড়ৈপাড়া এলাকার রুবেল হাওলাদার ও মাহিনূর বেগম দম্পতির ছেলে। অপরদিকে রুবায়েত সরদার গোলারবাজার এলাকার আমিনুল হক তপন ও আয়েশা খানম দম্পতির সন্তান।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল দুই শিক্ষার্থীর। কায়দা, আমপারা ও নাজেরা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তারা হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা সফলভাবে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।

হাফেজ মৃদুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশের মানুষের খেদমত করতে চাই।”

হাফেজ রুবায়েত সরদার বলেন, “বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি শুধু হাফেজ হয়েই থেমে থাকতে চাই না, ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

ছেলেদের এমন অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরাও। মৃদুলের মা মাহিনূর বেগম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে হাফেজ বানানোর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। এখন চাই, সে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

পণ্ডিতসার তাহসিনুল কুরআন কওমী মাদ্রাসার প্রধান অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুস ছাত্তার খান জানান, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি থেকে ১০১ জন শিক্ষার্থী হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৯৯ জন ছেলে ও দুইজন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু কোরআন মুখস্থ করানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করছি। আশা করি, এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আলেম ও মাওলানা হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”