রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত বছর বয়সি একটি শিশুকে সম্প্রতি শরীয়তপুর জেলা থেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুথী আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে বিচারিক আদালতের আদেশে কারাগারে আটক রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শিশুটি গত কয়েকদিন আগে বিকেলে কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসার বাইরে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে আশপাশে কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন এবং ওইদিনই কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন। পরবর্তীতে শিশুটির সন্ধান পেতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত শুরু করা হয় এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার সংগৃহীত ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে। ওই ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে, এক নারী কৌশলে শিশুটির হাত ধরে জোরপূর্বক তাকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটির মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যা পুলিশকে অপরাধীকে শনাক্ত করতে আরও বেশি সহায়তা করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সফল ওই অভিযানে অভিযুক্ত যুথী আক্তারকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তার হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্ত নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




































