ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছর মশাবাহিত এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো সচেতন না হলে এবং মশার উপদ্রব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি নতুন রোগীর ভর্তি হওয়ার হারও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন রোগী। এর মাধ্যমেই চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জনে গিয়ে ঠেকেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলোর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিনিয়ত নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে প্রয়োজনীয় বেডের সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে বা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং এর মূল উৎস ধ্বংস করতে হবে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে বিধায় বাড়িঘর ও আশেপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয়

অনলাইনে অর্ডার দিয়েছিলেন ডিভাইস, পার্সেল খুলে পেলেন গোবর!

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত ০৮:০১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছর মশাবাহিত এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো সচেতন না হলে এবং মশার উপদ্রব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি নতুন রোগীর ভর্তি হওয়ার হারও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন রোগী। এর মাধ্যমেই চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জনে গিয়ে ঠেকেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলোর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের নানা প্রান্তে প্রতিনিয়ত নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে প্রয়োজনীয় বেডের সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে বা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং এর মূল উৎস ধ্বংস করতে হবে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে বিধায় বাড়িঘর ও আশেপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন তারা। দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।