জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দখলকৃত গোলান মালভূমি সবসময় তাদের দেশের ভূখণ্ড হিসেবেই থাকবে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইসরাইল। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তেল আবিব সরকার অঞ্চলটিকে তাদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেও দামেস্ক তা কখনো মেনে নেয়নি।
বিশ্ববাসীর সামনে দেওয়া ওই বক্তব্যে সিরীয় নেতা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইসরাইল বর্তমানে সিরীয় ভূখণ্ডের ওপর নিয়মিত সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখনো সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে আহমেদ আল-শারা উল্লেখ করেন যে, যারা এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে আগ্রহী, তাদের জন্য সমঝোতা ও নিরাপত্তার দরজা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। সিরিয়ার এই শীর্ষ নেতার মতে, সংঘাতের পথ পরিহার করে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা সম্ভব যদি প্রতিপক্ষ সৎ সদিচ্ছা প্রদর্শন করে।
এদিকে সিরীয় রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দাবি করেছেন যে, তেল আবিবের সার্বভৌমত্বের অধীনে থাকা গোলান মালভূমি চিরকাল তাদেরই ভূখণ্ড হিসেবে থাকবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।































