সারাদেশ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রধান দুর্গাপূজা শুরুর আগেই একটি মন্দিরে বিশেষ নবদুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতি চা বাগানের শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে টানা নয় দিন ধরে দেবীর নয়টি রূপের এই পূজা চলছে। বৈদিক ও পৌরাণিক রীতি মেনে আয়োজিত এই পূজার প্রথম দিনে শৈলপুত্রী এবং দ্বিতীয় দিনে ব্রহ্মচারিণীর রূপের পূজা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপে দেবীর পূজা করা হবে এবং দশমীর দিন অন্য প্রতিমার সঙ্গে এই প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হবে।
আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, দুর্গাপূজার প্রাক্কালে দেশের আর কোথাও এভাবে নবদুর্গার পূজার আয়োজন করা হয় না। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই ব্যতিক্রমী আয়োজনটি বর্তমানে ১৬তম বছরে পদার্পণ করেছে এবং প্রতি বছর এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা সমবেত হন। মন্দিরের পুরোহিত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপংকর ভট্টাচার্য জানান, দেবীর নয়টি রূপের প্রতিটির আলাদা বিশেষ তাৎপর্য ও গুণ রয়েছে। মন্দিরের আরেক পুরোহিত দয়াময় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন যে, মানুষের ভেতরের অশুভ শক্তি দূর করা এবং বিশ্বশান্তি কামনায় এই বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলচণ্ডী দেবীর নাম থেকেই শ্রীমঙ্গল উপজেলার নামকরণের উৎপত্তি হয়েছে এবং এই মন্দিরটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় এখানে দেবী জাগ্রত রয়েছেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস। নবদুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি পরিমল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক রাজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দেবীর এই রূপগুলোর পূজা দেখতে সারা বছর ও বিশেষ করে এই সময়ে মানুষ এখানে আসেন। এদিকে, এবারের পূজার পঞ্চম দিনের সব আয়োজন ও খরচের দায়িত্ব নিয়েছে ‘সনাতনী-৯৫ ব্যাচ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির সদস্য অমৃকা বৈদ্য ও চয়ন চক্রবর্তী জানান, ব্যয়ের পাশাপাশি তাদের সদস্যরা ওই দিন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
সাধারণ দর্শনার্থী ও ভক্তরা প্রধান পূজার আগেই এই মন্দিরে এসে বিশেষ আনন্দের অনুভূতি লাভ করেন এবং দেবীকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। প্রতি বছর এই আয়োজনে অংশ নিয়ে ভক্তরা মূলত দেশ ও জাতির জন্য শান্তি, মঙ্গল এবং কল্যাণ কামনা করে থাকেন। চা বাগান এলাকার এই সনাতন ধর্মীয় উৎসবটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।






































