ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

চাকরি ডেস্ক: ময়মনসিংহের সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা তরুণ শাহীনুর আলম প্রযুক্তির হাত ধরে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। শৈশবে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি টেলিভিশন দেখার সুবাদে জটিল সব যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তার মনে কৌতূহল জন্ম নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিকেল ফিজিক্স বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি চিকিৎসাযন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষক ড. স্বপন কুমারের তত্ত্বাবধানে বাবল সি-প্যাপ নিয়ে গবেষণার সময় চিকিৎসাযন্ত্র সম্পর্কে তার জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হয়। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণাপত্র পড়ার অভ্যাস তাকে পেশাগতভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। কর্মজীবনের শুরুতে ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসরঞ্জাম নিয়ে কাজ করার সুবাদে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের নজর কাড়েন। এই ধারাবাহিকতায় তাকে ল্যাপারোস্কোপিক ও রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম আসার পর শাহীনুরকে মূল অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই প্রযুক্তির ওপর দেশে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ক্যাটালগ ও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে তাত্ত্বিক প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে চীনে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশের প্রথম সফল রোবোটিক সার্জারিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শাহীনুর মনে করেন যে রোবোটিক সার্জারির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি করলেই চলবে না। এর জন্য দক্ষ সার্জন, প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার সুসমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ একজন শিক্ষার্থী থেকে তার এই প্রকৌশলী হয়ে ওঠার পথচলা দেশের স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা।

জনপ্রিয়

জামিন পেয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আইভীর

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

প্রকাশিত ১২:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি ডেস্ক: ময়মনসিংহের সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা তরুণ শাহীনুর আলম প্রযুক্তির হাত ধরে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। শৈশবে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি টেলিভিশন দেখার সুবাদে জটিল সব যন্ত্রের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তার মনে কৌতূহল জন্ম নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিকেল ফিজিক্স বিভাগে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি চিকিৎসাযন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষক ড. স্বপন কুমারের তত্ত্বাবধানে বাবল সি-প্যাপ নিয়ে গবেষণার সময় চিকিৎসাযন্ত্র সম্পর্কে তার জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হয়। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং গবেষণাপত্র পড়ার অভ্যাস তাকে পেশাগতভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। কর্মজীবনের শুরুতে ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসরঞ্জাম নিয়ে কাজ করার সুবাদে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের নজর কাড়েন। এই ধারাবাহিকতায় তাকে ল্যাপারোস্কোপিক ও রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম আসার পর শাহীনুরকে মূল অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই প্রযুক্তির ওপর দেশে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ক্যাটালগ ও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে তাত্ত্বিক প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে চীনে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশের প্রথম সফল রোবোটিক সার্জারিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

শাহীনুর মনে করেন যে রোবোটিক সার্জারির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানি করলেই চলবে না। এর জন্য দক্ষ সার্জন, প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার সুসমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ একজন শিক্ষার্থী থেকে তার এই প্রকৌশলী হয়ে ওঠার পথচলা দেশের স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা।