সারাদেশ ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে রংপুর মহানগরীসহ জেলার আট উপজেলার মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরিসহ নানা সাজসজ্জার কাজ। উৎসবের দিনগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ছয়শ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মোট ১৬৪টি এবং জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আটশ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে কারিগর ও আয়োজকেরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দক্ষ কারিগরের সংকটের কারণে অনেক মণ্ডপের আয়োজক পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে প্রতিমা সংগ্রহ করেছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু জানান, দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের উৎসবও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক উল্লেখ করেছেন যে, সকলে মিলে সতর্ক থাকলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটার সুযোগ থাকবে না এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা শেষ হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা পূজার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করে মনিটরিং সেল চালু করা এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে তা সার্বক্ষণিক সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে উৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হওয়ার পর এখন ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর অপেক্ষা করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই শারদীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।






































