ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‎মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ, চার দফা দাবি ‎

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের ম্যাধমে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
‎
‎জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় তাঁরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে দ্রুত স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
‎
‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখন বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পূজার ছুটির আগে তদন্ত শেষ করে তাঁকে স্থায়ী বহিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচলিত আইনে মামলা এবং ধর্মীয় অবমাননা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী যেকোনো ধরনের ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান নেই, আমরা এখানে কঠোর বিধান প্রয়োগ করবো। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি বা জটিলতা না থাকে, সেজন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‎
প্রো ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোঃ শামসুল আলম বলেন, যেকোনো ধরনের ধর্মবিদ্বেষ ও কটুক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করবো। ​শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং প্রশাসন তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করতে এবং জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা বোর্ডে নীতিমালা আরও জোরদার করা হবে।

‎বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—প্রথমত, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে স্থায়ী বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা। দ্বিতীয়ত, একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনঃতদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। চতুর্থত, ধর্মীয় অবমাননা প্রতিরোধে স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা।
‎
‎উল্লেখ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

ইংলিস ও কেয়ারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার দারুণ দিন

‎মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ, চার দফা দাবি ‎

প্রকাশিত ০৮:১৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের ম্যাধমে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
‎
‎জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় তাঁরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে দ্রুত স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
‎
‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখন বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পূজার ছুটির আগে তদন্ত শেষ করে তাঁকে স্থায়ী বহিষ্কার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচলিত আইনে মামলা এবং ধর্মীয় অবমাননা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী যেকোনো ধরনের ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান নেই, আমরা এখানে কঠোর বিধান প্রয়োগ করবো। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি বা জটিলতা না থাকে, সেজন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‎
প্রো ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোঃ শামসুল আলম বলেন, যেকোনো ধরনের ধর্মবিদ্বেষ ও কটুক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করবো। ​শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত এবং প্রশাসন তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করতে এবং জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা বোর্ডে নীতিমালা আরও জোরদার করা হবে।

‎বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—প্রথমত, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে স্থায়ী বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা। দ্বিতীয়ত, একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনঃতদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। চতুর্থত, ধর্মীয় অবমাননা প্রতিরোধে স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা।
‎
‎উল্লেখ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।