রাজনীতি ডেস্ক: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে ছয়জন সরকারি চাকরিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এই বিশ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত এই কমিটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক, একটি সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবীদের স্থান দেওয়ায় দলের ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
ঘোষিত এই কমিটির শীর্ষ দুটি পদেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে। এ ছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পশ্চিম কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। এই তালিকায় আরও যুক্ত হয়েছেন সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহিনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তহিদুল হক।
কমিটি প্রকাশের পর দলের একাংশের নেতাকর্মীরা সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান জানান যে দীর্ঘদিন পর কমিটি দেওয়া হলেও এতে সরকারি চাকরিজীবীদের রাখায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পৃক্ততা চাকরিবিধির পরিপন্থী এবং পদত্যাগ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অগ্রণী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আহসান হাবিব সরকারও একই সুরে জানিয়েছেন যে নিয়মানুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনীতিতে জড়াতে পারেন না এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে ওই ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু জানিয়েছেন যে তিনি ও সদস্যসচিব চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে জেলা বিএনপির বেঁধে দেওয়া পনেরো দিনের সময়সীমার মধ্যেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং দ্রুতই পদত্যাগের কাগজপত্র চলে আসবে। তবে কমিটির অপর সদস্য ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল অসুস্থ থাকায় ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা তহিদুল হক কমিটিতে নিজের নাম থাকার সত্যতা স্বীকার করলেও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে বিরত থেকেছেন এবং সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
সারel সার্বিক পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন যে দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিতর্কিত ওই ছয় সরকারি চাকরিজীবীকে আগামী পনেরো দিনের মধ্যে চাকরি কিংবা দলীয় পদ—এর যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





































