ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার থেকে সরিয়ে মাহফুজুর রহমানকে করা হলো তথ্য কমিশনার Logo রাজধানীর ১৩ স্পটে প্রধানমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শন Logo রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার তাগিদ Logo ল্যাবে তৈরি ‘মানব মস্তিষ্ক’ মহাকাশে পাঠাল স্পেসএক্স Logo অর্থ সঞ্চয়ের জন্য উপকারী হতে পারে ‘অর্থ বন্ধু’ Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কেমন একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম দেখতে আজিমপুর-ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী Logo আখাউড়ায় মন্দিরে চুরি, পণ্য উদ্ধার করে বুঝিয়ে দিলো পুলিশ Logo তৌফিক ভাইয়ের স্মরণে Logo বঙ্গভঙ্গ দিবসে বিএনপির কর্মসূচি না থাকায় জেডিপির ক্ষোভ

অর্থ সঞ্চয়ের জন্য উপকারী হতে পারে ‘অর্থ বন্ধু’

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ব্যক্তিগত খরচ সামলানো, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণত কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন অনেকেই। আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে একা একা চিন্তা করতে গিয়ে অনেক সময় পিছিয়ে পড়তে হয়, যা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন হতে পারে একজন বিশ্বস্ত সহায়ক বা ‘অর্থ-সঙ্গী’। এমন একজন বন্ধু অর্থের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার চেয়ে লক্ষ্য ঠিক রাখতে উৎসাহ জোগান এবং ব্যর্থ হলে দোষারোপ না করে পুনরায় চেষ্টা করতে সাহায্য করেন। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য একে অপরের সম্পদ বা আয়ের তুলনা করা নয়, বরং নিজেদের আর্থিক অভ্যাস বুঝে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটানো।

আচরণ-বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সহায়তার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে, যা সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অর্থনীতিবিদ এমিলি ব্রেজা ও অরুণ চন্দ্রশেখরের একটি মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা অনুযায়ী, সঞ্চয়ের অগ্রগতি অন্য কাউকে জানালে বা তদারকির ব্যবস্থা রাখলে অংশগ্রহণকারীরা একা সঞ্চয়কারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি অর্থ জমাতে পারেন। বিশেষ করে পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত হলে ফলাফল আরও ভালো পাওয়া যায়। তবে সবার পরিস্থিতি এক না হওয়ায় বন্ধুর সহায়তার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

যেকোনো মানুষকে ‘অর্থ-সঙ্গী’ হিসেবে বেছে নেওয়া যায় না, এর জন্য এমন কাউকে দরকার যিনি গোপনীয়তা রক্ষা করেন এবং খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেন। এ প্রসঙ্গে লেখক টোরি ডানল্যাপ মনে করেন, অর্থের লক্ষ্য পূরণে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের চেয়ে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ব্রিটনি কাস্ত্রো জানিয়েছেন, আলোচনার সময় মানসিক নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি এবং অন্যের পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের তুলনা না করে ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আয় কিংবা ব্যাংকের হিসাবের সব তথ্য শেয়ার করার প্রয়োজন নেই, বরং পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতির ওপর নির্ভর করে তথ্য ভাগ করে নিতে হবে।

অর্থ-সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রয়োজন হয় না, বরং সাধারণ আড্ডায় নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিজের খরচের সমস্যা বা জমানোর ইচ্ছার কথা শেয়ার করলে অপরজনও তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা বা লুকোচুরি করার প্রবণতা অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল করে তোলে, যা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করলে সহজ হয়ে ওঠে। এছাড়া নতুন আয়ের পথ খোঁজা কিংবা বেতন বাড়ানোর অনুরোধ করার মতো আত্মবিশ্বাসের বিষয়গুলোতেও বন্ধুর উৎসাহ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার থেকে সরিয়ে মাহফুজুর রহমানকে করা হলো তথ্য কমিশনার

অর্থ সঞ্চয়ের জন্য উপকারী হতে পারে ‘অর্থ বন্ধু’

প্রকাশিত ০৪:২২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ব্যক্তিগত খরচ সামলানো, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণত কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন অনেকেই। আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে একা একা চিন্তা করতে গিয়ে অনেক সময় পিছিয়ে পড়তে হয়, যা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন হতে পারে একজন বিশ্বস্ত সহায়ক বা ‘অর্থ-সঙ্গী’। এমন একজন বন্ধু অর্থের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার চেয়ে লক্ষ্য ঠিক রাখতে উৎসাহ জোগান এবং ব্যর্থ হলে দোষারোপ না করে পুনরায় চেষ্টা করতে সাহায্য করেন। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য একে অপরের সম্পদ বা আয়ের তুলনা করা নয়, বরং নিজেদের আর্থিক অভ্যাস বুঝে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটানো।

আচরণ-বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সহায়তার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে, যা সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অর্থনীতিবিদ এমিলি ব্রেজা ও অরুণ চন্দ্রশেখরের একটি মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা অনুযায়ী, সঞ্চয়ের অগ্রগতি অন্য কাউকে জানালে বা তদারকির ব্যবস্থা রাখলে অংশগ্রহণকারীরা একা সঞ্চয়কারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি অর্থ জমাতে পারেন। বিশেষ করে পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত হলে ফলাফল আরও ভালো পাওয়া যায়। তবে সবার পরিস্থিতি এক না হওয়ায় বন্ধুর সহায়তার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

যেকোনো মানুষকে ‘অর্থ-সঙ্গী’ হিসেবে বেছে নেওয়া যায় না, এর জন্য এমন কাউকে দরকার যিনি গোপনীয়তা রক্ষা করেন এবং খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেন। এ প্রসঙ্গে লেখক টোরি ডানল্যাপ মনে করেন, অর্থের লক্ষ্য পূরণে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের চেয়ে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ব্রিটনি কাস্ত্রো জানিয়েছেন, আলোচনার সময় মানসিক নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি এবং অন্যের পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের তুলনা না করে ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আয় কিংবা ব্যাংকের হিসাবের সব তথ্য শেয়ার করার প্রয়োজন নেই, বরং পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতির ওপর নির্ভর করে তথ্য ভাগ করে নিতে হবে।

অর্থ-সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রয়োজন হয় না, বরং সাধারণ আড্ডায় নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিজের খরচের সমস্যা বা জমানোর ইচ্ছার কথা শেয়ার করলে অপরজনও তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা বা লুকোচুরি করার প্রবণতা অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল করে তোলে, যা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করলে সহজ হয়ে ওঠে। এছাড়া নতুন আয়ের পথ খোঁজা কিংবা বেতন বাড়ানোর অনুরোধ করার মতো আত্মবিশ্বাসের বিষয়গুলোতেও বন্ধুর উৎসাহ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।