অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে সৌর প্যানেল নির্মাণের ১২ ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাব করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জৈবপ্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতগুলোতে প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মহাকাশ এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত এই বিষয়টির ওপর আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে উন্নত সৌর প্যানেল প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দেশের প্রধান উৎপাদক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন চীনা কর্মকর্তারা।
নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে পাতলা সিলিকন ওয়েফার, পেরোভস্কাইট এবং ট্যান্ডেম সৌরকোষ তৈরির নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে পারে। এর মধ্যে পেরোভস্কাইট হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ট্যান্ডেম সৌরকোষে সূর্যালোকের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ছাড়া, বড় পরিসরে তরলীকৃত স্তরে পলিসিলিকন উৎপাদনের খরচ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সব ধরনের সৌরপ্রযুক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়নি এবং টপকন, এইচজেটি ও এক্সবিসি প্রযুক্তির মতো উন্নত সৌরকোষ রপ্তানির ক্ষেত্রে কেবল কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো যেসব দেশ নিজস্ব সৌরশিল্প গড়ার চেষ্টা করছে, তাদের পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সৌরপ্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে চীনের সরকারের অনুমোদন এবং নজরদারির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।





































