প্রবাস ডেস্ক: কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মী থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে যে ফ্লাইটটি নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে নানা জটিলতার শিকার এই প্রবাসীদের অবশেষে দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে।
এর আগে কাজের সন্ধানে কম্বোডিয়ায় গিয়ে এই কর্মীরা বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েছিলেন। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হতো বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে কম্বোডিয়া সরকার বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার সুযোগ ঘোষণা করলে তারা নাম তালিকাভুক্ত করেন।
তালিকাভুক্তির পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অবৈধ অবস্থানসহ নানা জটিলতার কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করেছিল। পরবর্তী সময়ে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবের কাছে তাদের মুক্তির আবেদন জানানো হয়।
দূতাবাসের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের নানামুখী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই বন্দিদশার অবসান ঘটে। ব্র্যাক অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে এই কর্মীরা নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পারছেন। এই ঘটনাটি বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার শিকার হওয়া অসহায় কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






































