ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ক্যান্সার রোগীর ছবি দেখে আয়ু বলবে এআই, দাবি গবেষণায় Logo অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সিলেটে, ফাইনাল চট্টগ্রামে Logo খাদ্য ব্যবসা: নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে, বাদ যাবে না পিঠা, পুরির দোকানও Logo লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব Logo শিশু অধিকার নিয়ে এখন অনেক কিছু জানি Logo বিমানবন্দরের ভিডিও ‘ভাইরাল’, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে ওএসডি Logo ইয়োকোহামায় চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপুর ‘ডট’: রং ও রেখায় শিকড়ের সন্ধান Logo কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান Logo তার চুরি যুক্তরাজ্যেও, যে গ্রামে দুই দিন বন্ধ ফোন-ইন্টারনেট Logo ৬ ইংলিশ ক্লাবের কাছ থেকে সুপার লিগের খরচ চায় রেয়াল মাদ্রিদ

লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

ফিচার ডেস্ক: শরতের শিউলি ফুলের সুবাস ও কাশফুলের ভেলা জানান দেয় আবহমান বাংলার সর্বজনীন উৎসব দুর্গাপূজার আগমন। ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে এই উৎসব প্রতিটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, যেখানে মিশে আছে মাটির গন্ধ ও নাড়ির টান। পুরাণের মহিষাসুরমর্দিনী বা মহাশক্তি দেবী দুর্গাকে বাংলার লোকমানস সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আদলে আপন করে নিয়েছে। ঘরের চৌহদ্দিতে তিনি আর কোনো দূরের দেবতা নন, বরং হয়ে ওঠেন বাপের বাড়িতে আসা আদুরে মেয়ে উমা।

দেবীর এই দ্বিবিধ রূপ প্রকাশ পায় লোকছড়া, আগমনী গান, শাক্ত পদাবলী এবং মহালয়ার সুপ্রভাতী অনুষ্ঠানে। রামপ্রসাদ সেনের মতো সাধকদের গানে উমাকে না পাঠানোর আকুল প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ফুঠে ওঠে সাধারণ জননীর চিরন্তন বেদনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লোকসাহিত্য প্রবন্ধে দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও চাওয়া-পাওয়া লোকছন্দের জাদুকরী ছোঁয়ায় উচ্চতর শিল্পরূপ পায়। হরগৌরীর কাহিনিতে দেবদেবীরা কোনো দূরবর্তী অলৌকিক জগতে না থেকে বাঙালির ঘরের চেনা রূপ ধারণ করেন।

শিব এখানে উদাসীন যোগী আর উমা বাপের বাড়ির টানে ব্যাকুল তরুণী মেয়ে হিসেবে মর্ত্যে আসেন। হিমালয় ও মেনকার সংসারের নানা টানাপোড়েন, হাসিকান্না ও মানভঞ্জনের পালা ফুটিয়ে তোলে চিরচেনা সমাজচিত্র। মেনকার স্বপ্নে উমাকে দেখার লোকছড়া থেকে শুরু করে আগমনী গানে কাজ করে এক মনস্তাত্ত্বিক অপেক্ষা। আর বিজয়ার দিনে উমার স্বামীগৃহে প্রস্থানকালে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের চোখ জলে ভরে ওঠে।

লোকজ ধারার পাশাপাশি শাক্ত পদাবলী দেবীবন্দনার সংগীতকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা দান করেছে। রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের মতো সাধকদের গানে ভক্ত ও দেবীর সম্পর্ক নিছক ভয়ের উপাসনা থাকে না, বরং জননী হিসেবে প্রকাশিত হয়। আগমনীর আনন্দ আর বিজয়ার বিষাদ মিলে বাংলার শরৎকাল তার নিজস্ব অনন্য সাংস্কৃতিক সুর খুঁজে পায়।

জনপ্রিয়

ক্যান্সার রোগীর ছবি দেখে আয়ু বলবে এআই, দাবি গবেষণায়

লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

প্রকাশিত ০২:০৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: শরতের শিউলি ফুলের সুবাস ও কাশফুলের ভেলা জানান দেয় আবহমান বাংলার সর্বজনীন উৎসব দুর্গাপূজার আগমন। ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে এই উৎসব প্রতিটি বাঙালির প্রাণের স্পন্দন, যেখানে মিশে আছে মাটির গন্ধ ও নাড়ির টান। পুরাণের মহিষাসুরমর্দিনী বা মহাশক্তি দেবী দুর্গাকে বাংলার লোকমানস সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আদলে আপন করে নিয়েছে। ঘরের চৌহদ্দিতে তিনি আর কোনো দূরের দেবতা নন, বরং হয়ে ওঠেন বাপের বাড়িতে আসা আদুরে মেয়ে উমা।

দেবীর এই দ্বিবিধ রূপ প্রকাশ পায় লোকছড়া, আগমনী গান, শাক্ত পদাবলী এবং মহালয়ার সুপ্রভাতী অনুষ্ঠানে। রামপ্রসাদ সেনের মতো সাধকদের গানে উমাকে না পাঠানোর আকুল প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ফুঠে ওঠে সাধারণ জননীর চিরন্তন বেদনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লোকসাহিত্য প্রবন্ধে দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও চাওয়া-পাওয়া লোকছন্দের জাদুকরী ছোঁয়ায় উচ্চতর শিল্পরূপ পায়। হরগৌরীর কাহিনিতে দেবদেবীরা কোনো দূরবর্তী অলৌকিক জগতে না থেকে বাঙালির ঘরের চেনা রূপ ধারণ করেন।

শিব এখানে উদাসীন যোগী আর উমা বাপের বাড়ির টানে ব্যাকুল তরুণী মেয়ে হিসেবে মর্ত্যে আসেন। হিমালয় ও মেনকার সংসারের নানা টানাপোড়েন, হাসিকান্না ও মানভঞ্জনের পালা ফুটিয়ে তোলে চিরচেনা সমাজচিত্র। মেনকার স্বপ্নে উমাকে দেখার লোকছড়া থেকে শুরু করে আগমনী গানে কাজ করে এক মনস্তাত্ত্বিক অপেক্ষা। আর বিজয়ার দিনে উমার স্বামীগৃহে প্রস্থানকালে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের চোখ জলে ভরে ওঠে।

লোকজ ধারার পাশাপাশি শাক্ত পদাবলী দেবীবন্দনার সংগীতকে এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা দান করেছে। রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের মতো সাধকদের গানে ভক্ত ও দেবীর সম্পর্ক নিছক ভয়ের উপাসনা থাকে না, বরং জননী হিসেবে প্রকাশিত হয়। আগমনীর আনন্দ আর বিজয়ার বিষাদ মিলে বাংলার শরৎকাল তার নিজস্ব অনন্য সাংস্কৃতিক সুর খুঁজে পায়।