ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপানে কামরুল হাসান লিপুর একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু Logo পিএসজি ম্যাচের জন্য ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত ছিল না’ বার্সেলোনা Logo পাখির ডানায় শীতের বার্তা, অপার সৌন্দর্যে জেগেছে চলনবিল Logo আট মাসেও কাটেনি অস্থিরতা: জনমনে স্বস্তি ফেরানো জরুরি Logo সিলেটের মাঠে সোনালি স্বপ্ন, আমনে ৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা Logo গৃহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো একটি দিন Logo ক্যান্সার রোগীর ছবি দেখে আয়ু বলবে এআই, দাবি গবেষণায় Logo অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সিলেটে, ফাইনাল চট্টগ্রামে Logo খাদ্য ব্যবসা: নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে, বাদ যাবে না পিঠা, পুরির দোকানও Logo লোকসাহিত্য ও শাক্ত পদাবলীতে বাংলার দুর্গোৎসব

আট মাসেও কাটেনি অস্থিরতা: জনমনে স্বস্তি ফেরানো জরুরি

জাতীয় ডেস্ক: নির্বাচনে ভূমিধস জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠনের ইতিমধ্যে আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবে সরকারের শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে যেসব শঙ্কা ছিল, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা কাটেনি। অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ এবং মব সন্ত্রাসের ঘটনায় দেশজুড়ে এক ধরনের গভীর অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিপুল আশা নিয়ে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও ধীরে ধীরে চিড় ধরতে শুরু করেছে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকার এখনো শক্ত কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং রহস্যজনক লাশের উদ্ধারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাসে শুধু রাজধানীতেই খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং বিভিন্ন জেলায় অপরাধের পরিসংখ্যান পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। মাদকের ভয়ংকর বিস্তার এবং এর সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা রোধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায়ও চরম অস্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এলপিজি গ্যাসের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। এর বাইরে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়ম ও রাজনৈতিক তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়ার মাধ্যমে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে সরকারের সামগ্রিক সুশাসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কঠোর পদক্ষেপ কিছুটা প্রশংসা কুড়িয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের দায়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। ১৮ দিনের ব্যবধানে এই দুই নেতার পদ হারানোর ঘটনা দল ও সরকারের জন্য বড় বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে এই বিচ্ছিন্ন পদত্যাগের ঘটনাগুলো দেশের সামগ্রিক সংকটের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের তরফ থেকে আরও অনেক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয়

জাপানে কামরুল হাসান লিপুর একক চিত্রপ্রদর্শনী শুরু

আট মাসেও কাটেনি অস্থিরতা: জনমনে স্বস্তি ফেরানো জরুরি

প্রকাশিত ০৩:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: নির্বাচনে ভূমিধস জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠনের ইতিমধ্যে আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবে সরকারের শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ে যেসব শঙ্কা ছিল, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা কাটেনি। অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ এবং মব সন্ত্রাসের ঘটনায় দেশজুড়ে এক ধরনের গভীর অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিপুল আশা নিয়ে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অনেকের মধ্যেই হতাশা তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও ধীরে ধীরে চিড় ধরতে শুরু করেছে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকার এখনো শক্ত কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং রহস্যজনক লাশের উদ্ধারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাসে শুধু রাজধানীতেই খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং বিভিন্ন জেলায় অপরাধের পরিসংখ্যান পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। মাদকের ভয়ংকর বিস্তার এবং এর সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা রোধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায়ও চরম অস্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এলপিজি গ্যাসের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। এর বাইরে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়ম ও রাজনৈতিক তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়ার মাধ্যমে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে সরকারের সামগ্রিক সুশাসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কঠোর পদক্ষেপ কিছুটা প্রশংসা কুড়িয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের দায়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। ১৮ দিনের ব্যবধানে এই দুই নেতার পদ হারানোর ঘটনা দল ও সরকারের জন্য বড় বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে এই বিচ্ছিন্ন পদত্যাগের ঘটনাগুলো দেশের সামগ্রিক সংকটের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের তরফ থেকে আরও অনেক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।