ফিচার ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কর্মরত ৩১ জন গৃহকর্মীকে নিয়ে সম্প্রতি ঢাকার ইন্দিরা রোডের একটি কমিউনিটি হলে বিশেষ একটি দিন উদযাপিত হয়েছে। নানা ব্যস্ততা ও সময়ের ভিন্নতা পেরিয়ে অবশেষে নির্ধারিত দিনে তারা সবাই একত্রিত হন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেখানে শুরু হয় এই কর্মজীবী নারীদের জীবনসংগ্রামের নানা গল্পচারণ। শৈশবের স্মৃতি থেকে শুরু করে বর্তমান জীবনের সুখ-দুঃখের কথা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন তারা।
উপস্থিত নারীদের শৈশব, পড়াশোনা, ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পারিবারিক সচ্ছলতার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। সংসার, স্বামী, সন্তান ও বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে তাদের অর্জিত তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতাগুলোও প্রকাশ পায়। স্বল্পপরিচিত এই নারীরা মুহূর্তের মধ্যেই যেন একে অপরের আপন হয়ে ওঠেন। নিজেদের জমানো সব কথা এক দিনেই শেষ করার আগ্রহ দেখা যায় তাদের চোখেমুখে। কারণ তাদের জীবনে এমন একটি দিন গল্প করে কাটানোর সুযোগ পাওয়া সত্যিই এক প্রকার বিলাসিতা।
মূলত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে সচেতন করতেই এই আয়োজন করা হয়েছিল। কথা বলে জানা যায়, উপস্থিত সকল নারীরই ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছিল। দারিদ্র্য, পরিবারের পরিস্থিতি কিংবা অল্প বয়সে ভালো থাকার আশায় তারা এই পরিণতির শিকার হন। বিয়ের পর তাদের প্রায় প্রত্যেকের জীবনেই নেমে আসে নানা ধরনের বঞ্চনা ও কষ্টের অভিজ্ঞতা। তবে তারা প্রত্যেকেই চান না তাদের মেয়েরাও একই রকম ভাগ্যের মুখোমুখি হোক।
আলোচনার একপর্যায়ে বাল্যবিয়ে রোধে করণীয় এবং বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া হয়। পরিবারকে বোঝানো, বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নেওয়া কিংবা প্রশাসন বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার সহায়তা চাওয়ার পথগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে রাহেলা, জরিনা, সুমি ও তৈয়বার মতো নারীরা নিজেদের মেয়েদের বাল্যবিয়ে না দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন। তারা সবাই মিলে সেদিন বাল্যবিয়েকে লাল কার্ড দেখান এবং মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা উপস্থিত নারীদের মধ্যে নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। শীতের রাতে টায়ার না পোড়ানো, গাছ না কাটা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বা গ্যাস অপচয় না করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার কথা তারা বুঝতে পারেন। সাধারণ এই নারীদের সচেতন হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এবং একসঙ্গে পরিবর্তনের অঙ্গীকার ভবিষ্যতের সুন্দর বাংলাদেশের একটি নতুন স্বপ্ন দেখায়।





































