লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রায় এক শতাব্দী আগে মানব চরিত্রের দুটি প্রধান দিক হিসেবে অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের ধারণা দেন সুইজারল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং। তবে বাস্তব জীবনে অনেক মানুষই নিজেদের এই দুটি চরম সীমার কোনোটিতে পুরোপুরি মেলাতে পারেন না। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, মানুষের চরিত্র কেবল এই দুই ভাগে সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মাঝে আরও কিছু আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্র রয়েছে। সমাজবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া এই নতুন ঘরানাগুলো মানুষের সামাজিক আচরণকে আরও নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করে।
নতুন এই ধারণার মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাম্বিভার্ট’ ব্যক্তিত্ব, যা মূলত অন্তর্মুখী ও বহির্মুখীর একটি চমৎকার মিশ্রণ। এই ধরনের মানুষ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে সহজেই মিশে যেতে পারলেও অন্তর্মুখীদের মতোই তাদের সামাজিক শক্তি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। ফলে তাদের মনকে পুনরায় চাঙা করতে নির্দিষ্ট সময় একা কাটানোর প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, ‘অমনিভার্ট’ নামের আরেকটি ধরন রয়েছে যারা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিত্বের দুই চরম প্রান্তে দোল খান। তারা কখনো পুরোপুরি গুটিয়ে থাকেন আবার কখনো চরম বহির্মুখীর মতো পুরো অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দুনিয়ায় একদম নতুন সংযোজন হলো ‘ওট্রোভার্ট’ নামক আরেকটি ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য। যুক্তরাষ্ট্রের আদারনেস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রামি কামিন্সকি এই পরিভাষাটি তৈরি করেছেন এবং তিনি ‘দ্য গিফট অফ নট বিলংগিং’ বইয়ের লেখক। ওট্রোভার্ট স্বভাবের মানুষেরা অত্যন্ত মিশুক ও বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আবেগের দিক থেকে কখনো নিজেদের দলের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন না। তারা দলের মতাদর্শের সঙ্গে নিজেদের বিলীন করেন না এবং দলগত আড্ডার চেয়ে দুজন মানুষের গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি মূল্যায়ন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ডা. মাইকেল আলসি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ কেবল মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয় বরং এটি একটি শারীরিক প্রক্রিয়াও বটে। অতিরিক্ত মেলামেশার কারণে স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে বিধায় ভিন্ন ব্যক্তিত্বের প্রিয়জনদের সঙ্গে মানিয়ে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে জোর করে কোনো দলে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা কোনো কাজের কথা নয় কারণ এই ভিন্নতা কোনো রোগ বা মানসিক সমস্যা নয়। বাম-হাতি মানুষ যেমন ব্যতিক্রমী অথচ স্বাভাবিক, তেমনি অ্যাম্বিভার্ট বা ওট্রোভার্ট হওয়াটাও প্রকৃতির একটি চমৎকার উপহার।


































