শিক্ষা ডেস্ক: শ্রেণিকক্ষে পড়ার সময় শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। কিন্তু চারপাশের অতিরিক্ত শব্দ বা শব্দদূষণ পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই ধরনের পরিবেশ শিশুদের শেখার প্রক্রিয়ার জন্য বেশ উদ্বেগের।
রাজশাহী শহরের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় এই চিত্র উঠে আসে। ২০২৩ সালে ইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোর ভেতরে শব্দের গড় মাত্রা ছিল ৭৪ দশমিক ১ থেকে ৮০ দশমিক ১ ডেসিবেল পর্যন্ত। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায় যে এসব শব্দের কারণে তাদের পাঠে মনোযোগ দিতে বেশ অসুবিধা হয়।
শিশুদের শেখার ওপর শব্দের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আরও বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড বিহেভিয়ার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, চারপাশের কথাবার্তার শব্দ শিশুদের মৌখিক তথ্য মনে রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। এছাড়া পরিবেশের অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় শব্দও শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে গবেষণার ফলগুলো প্রমাণ করে যে শব্দদূষণ শিশুদের মানসিক একাগ্রতা ও শিক্ষাজীবনের জন্য একটি বড় হুমকি। তাই শিশুদের সঠিক পঠন ও শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত শব্দ এবং যানবাহনের হর্ন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।




































