আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আদালতে তলব করা হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করে। আগামী চার নভেম্বর তাকে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন এবি পার্টির এই নেতা। ২৮ অক্টোবর আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার ও চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো দৃশ্যমান বিচার কাজ এগোচ্ছে না। নিজের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে ট্রাইব্যুনালে কোটিতে কোটিতে এবং বস্তায় ভরে ভরে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে। এই ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা আদালতের নজরে আসে।
আদালতের এই তলব আদেশের বিষয়ে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রায় একই ধরনের প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে গ্রেপ্তার আসামিদের বিচার না হয়ে কেবল পলাতক আসামিদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রসিকিউটর তামিম সাংবাদিকদের সামনে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য এমন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও আইনি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালত অবমাননার এই নোটিশ জারির মাধ্যমে বিচারকাজে নিয়োজিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে চলে এসেছে। আগামী মাসে নির্ধারিত শুনানির দিনে ব্যারিস্টার ফুয়াদের ব্যাখ্যা এবং ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে।



































