ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে

অপরাধ ডেস্ক: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার রহস্য উন্মোচন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংযোগ কতটুকু তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে। গত ১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সংবাদমাধ্যমকে রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানার একটি বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরায় একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন এই তরুণী। এছাড়া ঘটনার আগে তারা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন এবং মোটরসাইকেলে করে ঘোরাঘুরি করেছিলেন বলে জানা গেছে। মামলার অপর অভিযুক্ত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গেও দিশাকে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দেখা গেছে। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বা সিডিআর বিশ্লেষণ করেও ঘটনার আগে তাদের মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মূল রহস্য উন্মোচন, পলাতক বা অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার আসল স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এছাড়া আগে রিমান্ডে থাকা অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ। এর পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে নৌ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সামনে আসা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে উত্তরা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে তাহসিফ, দীপ ও দিশা একসঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ সেখানে অবস্থান করার পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের একসঙ্গে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করতে দেখা যায়। তবে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পরবর্তীতে তারা কোথায় গিয়েছিলেন এবং কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই রাতের পুরো গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি রহস্যগুলো দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

৫ হাজার টনেরও বেশি ওজনের স্টারশিপ রকেট কতটা শক্তিশালী?

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত ০৬:০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার রহস্য উন্মোচন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংযোগ কতটুকু তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে। গত ১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন সংবাদমাধ্যমকে রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানার একটি বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরায় একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন এই তরুণী। এছাড়া ঘটনার আগে তারা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন এবং মোটরসাইকেলে করে ঘোরাঘুরি করেছিলেন বলে জানা গেছে। মামলার অপর অভিযুক্ত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গেও দিশাকে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দেখা গেছে। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট বা সিডিআর বিশ্লেষণ করেও ঘটনার আগে তাদের মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মূল রহস্য উন্মোচন, পলাতক বা অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার আসল স্থান নির্ধারণ এবং আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এছাড়া আগে রিমান্ডে থাকা অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ। এর পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে নৌ পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সামনে আসা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে উত্তরা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে তাহসিফ, দীপ ও দিশা একসঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ সেখানে অবস্থান করার পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের একসঙ্গে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করতে দেখা যায়। তবে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পরবর্তীতে তারা কোথায় গিয়েছিলেন এবং কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই রাতের পুরো গতিবিধি এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি রহস্যগুলো দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।