ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো পর্যটন মেলা ২০২৬ Logo প্রাইজবন্ডের ছয় লাখ টাকা জিতল যে নম্বর Logo পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির নতুন কমিটি নেতৃত্বে ফজলে রাব্বি – আল-আমিন Logo সেশনজট নিরসন থেকে ছাত্র সমিতি নির্বাচন, নতুন ডিনের কাছে শিক্ষার্থীদের ৪ দাবি Logo জাবি শিক্ষার্থী থেকে সংসদ সদস্য; মির্জা ফয়সল আমীনের জয়ে ছাত্রদলের মিষ্টি বিতরণ Logo উদ্যোক্তা হতে বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে ২০ লাখ টাকা, আবেদন শুরু ৫৬ জেলায় Logo ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করল টিকটক Logo ডিসেম্বর সামনে রেখে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী Logo সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে চর কুকরি-মুকরির ইকোপার্ক Logo বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বিমান মহড়া শুরু

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে চর কুকরি-মুকরির ইকোপার্ক

পর্যটন ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইকোপার্কটি এখন চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকটে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ২০১৮ সালে এই পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে পার্কটির অবকাঠামো এবং বিনোদনসামগ্রীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পর্যটন বিকাশের এই সম্ভাবনাটি এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

পার্কের ভেতরে শিশুদের জন্য স্থাপন করা দোলনা ও স্লাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে রয়েছে। রোদ ও বৃষ্টির প্রভাবে অনেক সরঞ্জামে মরিচা ধরেছে এবং কিছু অংশ ভেঙে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় হাঁটার পথ ও পার্কের চারপাশ লতাপাতা, ঝোপঝাড় ও আগাছায় ঢেকে গেছে। এতে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশুদের নিরাপদ বিনোদনের পরিবেশ নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পার্কটির এমন বেহাল দশায় হতাশা প্রকাশ করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও পর্যটক ইয়াহইয়া ইসলাম জানান, একসময় পরিবার নিয়ে এখানে আনন্দঘন সময় কাটাতে আসলেও বর্তমানে এখানকার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আরেক পর্যটক জিনিয়া ইসলাম উল্লেখ করেন যে, ভাঙা রাইড ও লোহার সরঞ্জামগুলোর কারণে শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকারের বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ শুধু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশিষ কুমার দে জানিয়েছেন যে, ইকোপার্কটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবগত আছেন। পার্কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা এবং নষ্ট রাইডগুলো মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে পার্কটিকে পুনরায় দর্শনার্থীদের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের মতে, চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। ইকোপার্কটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই পর্যটনকেন্দ্রটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং সরকারি বিনিয়োগের সঠিক সুফল নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয়

পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো পর্যটন মেলা ২০২৬

সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে চর কুকরি-মুকরির ইকোপার্ক

প্রকাশিত ১০:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পর্যটন ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইকোপার্কটি এখন চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকটে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ২০১৮ সালে এই পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও তদারকির অভাবে পার্কটির অবকাঠামো এবং বিনোদনসামগ্রীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পর্যটন বিকাশের এই সম্ভাবনাটি এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

পার্কের ভেতরে শিশুদের জন্য স্থাপন করা দোলনা ও স্লাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে রয়েছে। রোদ ও বৃষ্টির প্রভাবে অনেক সরঞ্জামে মরিচা ধরেছে এবং কিছু অংশ ভেঙে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় হাঁটার পথ ও পার্কের চারপাশ লতাপাতা, ঝোপঝাড় ও আগাছায় ঢেকে গেছে। এতে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশুদের নিরাপদ বিনোদনের পরিবেশ নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পার্কটির এমন বেহাল দশায় হতাশা প্রকাশ করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও পর্যটক ইয়াহইয়া ইসলাম জানান, একসময় পরিবার নিয়ে এখানে আনন্দঘন সময় কাটাতে আসলেও বর্তমানে এখানকার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আরেক পর্যটক জিনিয়া ইসলাম উল্লেখ করেন যে, ভাঙা রাইড ও লোহার সরঞ্জামগুলোর কারণে শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকারের বিশাল অঙ্কের এই বিনিয়োগ শুধু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশিষ কুমার দে জানিয়েছেন যে, ইকোপার্কটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবগত আছেন। পার্কের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা এবং নষ্ট রাইডগুলো মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে পার্কটিকে পুনরায় দর্শনার্থীদের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের মতে, চর কুকরি-মুকরির ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। ইকোপার্কটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই পর্যটনকেন্দ্রটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং সরকারি বিনিয়োগের সঠিক সুফল নিশ্চিত হবে।