স্বাস্থ্য ডেস্ক: বর্তমান যান্ত্রিক যুগে বুকে ধড়ফড়ানি বা হাত-পা ঘামার মতো তীব্র দুশ্চিন্তা বা অ্যাংজাইটি অত্যন্ত পরিচিত একটি মানসিক অবস্থা। অনেকে এটিকে সরাসরি মানসিক রোগ মনে করে ইন্টারনেট ঘেঁটে ভুল ধারণা পোষণ করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাংজাইটি নিজে কোনো রোগ নয় বরং বড় কোনো মানসিক বা শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক মার্ক রেগো জানিয়েছেন, এটি অস্পষ্ট হুমকির প্রতি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করলে সমস্যা তৈরি করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে মস্তিস্ক পূর্ণাঙ্গভাবে পরিপক্ব না হওয়ায় দুশ্চিন্তা কম দেখা গেলেও বর্তমানে এর প্রকোপ বাড়ছে। প্রাক-বিদ্যালয়গামী শিশুদের মধ্যে পরিবার থেকে দূরে থাকা বা অন্ধকারের ভয় বেশি দেখা গেলেও বয়স বাড়লে তা কেটে যায়। তবে নতুন পরিবেশ এড়ানো বা সামাজিক ভীতি পরবর্তী জীবনের স্থায়ী দুশ্চিন্তার বড় সংকেত হতে পারে। পারিবারিক কলহ, বুলিং বা জিনগত ইতিহাসের কারণে শিশুদের এই সমস্যা অনেক সময় রাগ বা কান্নাকাটির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
কৈশোর বা তরুণ বয়সে দুশ্চিন্তার ধরন বদলে যায় এবং এটি সাধারণত পেশি শক্ত হওয়া বা প্যানিক অ্যাটাকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই বয়সে প্রথমবার প্যানিক অ্যাটাক শুরু হওয়া মানে তা বিষণ্নতার পূর্বলক্ষণ এবং এর ফলে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, মধ্যবয়সী বা প্রাপ্তবয়স্কদের হঠাৎ তীব্র দুশ্চিন্তা বিবাহবিচ্ছেদ, চাকরি হারানো বা আর্থিক সংকটের মতো জীবনের চরম বাস্তব ক্ষতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নেয়। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবেলায় দ্রুত কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি বা সিবিটি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রবীণ বয়সে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিলে চিকিৎসকেরা এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন কারণ এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জৈবিক সংকেত দেয়। শেষ বয়সে প্রথমবার তীব্র মানসিক অস্থিরতায় ভোগাদের একটি বড় অংশের পরবর্তী সময়ে ডিমেনশা বা স্মৃতিভ্রমের রোগ ধরা পড়ে। তাই ইন্টারনেট ঘেুঁটে যত্রতত্র ওষুধ না খেয়ে বয়স ও জীবনযাত্রার সমস্যা মিলিয়ে দেখা উচিত। একজন নিবন্ধিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের নির্দেশিকা অনুযায়ী আসল সমস্যা চিহ্নিত করে চিকিৎসা নেওয়াই সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়ার একমাত্র উপায়।





































