রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং জয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা নেতাদের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হওয়ার পর দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রম আরও বেশি গতিশীল করা হবে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় দেশের চলমান শ্রমিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন যে, চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে দেশি ও বিদেশি নানা ইন্ধন কাজ করছে। দেশের পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে এবং নতুন সরকারকে ব্যর্থ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি মজবুত করার জন্য সরকার বর্তমানে এসব ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর নেপথ্যে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির জড়িত থাকার জোরালো দাবি করেন রিজভী। এ ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে দেশের সকল স্তরের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি নেতারা।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় আবারও বিপ্লবের কথা বলা বোধগম্য নয়। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান না করে লংমার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত অতীতে গোপন রাজনীতি করেছে এবং তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মিশে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রস্তুতি এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।




































