ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ভারত মহাসাগরে নজর: ৪ শতাধিক যুদ্ধজাহাজ-সাবমেরিনের বিশাল বহর গড়ল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার বিভিন্ন ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও পরিবহন রুটে প্রতিদিন চীনের প্রায় একশ যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান টহল দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে তাইওয়ান ও জাপানের নিকটবর্তী জলসীমায় বেইজিংয়ের এই নৌ উপস্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় সীমানা ছাড়িয়ে চীনের এমন সামরিক তৎপরতা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে ওয়াশিংটনের চেয়েও অনেক বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে চীনের বহরে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর পর্যালোচিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনা নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে চার শতাধিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। জাহাজের সংখ্যার এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বেইজিংয়ের নৌবহর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। দেশটি বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করার পাশাপাশি চতুর্থ আরেকটি রণতরী তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, চীনের নির্মাণাধীন পরবর্তী বিমানবাহী রণতরীটি পারমাণবিক শক্তিতে চালিত হতে পারে। আধুনিক সামরিক ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে এটি অন্যতম বৃহৎ নৌবাহিনী সম্প্রসারণের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এশিয়ার বিস্তীর্ণ জলসীমা জুড়ে চীনের সামরিক তৎপরতা এখন অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ছাড়াও ফিলিপিন্সের পূর্বাঞ্চল ও জাপানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়মিত টহল দিচ্ছে চীনা যুদ্ধজাহাজ। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং এডেন উপসাগরেও নিজেদের সুদৃঢ় নৌবহর নিয়মিতভাবে মোতায়েন রাখছে দেশটি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাইওয়ানের চারপাশের জলসীমায় সাধারণ সময়েই প্রায় ছয়টি চীনা যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করে। এছাড়া ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে এই উপস্থিতি আরও কয়েকগুণ বেশি থাকে।

কেবল যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই চীনের মূল লক্ষ্য নয়, বরং নিজেদের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা। দেশের উপকূলীয় চারপাশের জলসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের দাবি আরও জোরালো করতে চায় বেইজিং। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে মার্কিন বাহিনীকে কার্যকরভাবে দূরে রাখাও এই সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনের এই দ্রুতগতির নৌবহর প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয়

নতুনদের তাল-লয় শেখাতে নতুন ঘরানার কিবোর্ড আনল ক্যাসিও

ভারত মহাসাগরে নজর: ৪ শতাধিক যুদ্ধজাহাজ-সাবমেরিনের বিশাল বহর গড়ল চীন

প্রকাশিত ০১:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার বিভিন্ন ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও পরিবহন রুটে প্রতিদিন চীনের প্রায় একশ যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান টহল দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু করে তাইওয়ান ও জাপানের নিকটবর্তী জলসীমায় বেইজিংয়ের এই নৌ উপস্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় সীমানা ছাড়িয়ে চীনের এমন সামরিক তৎপরতা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে ওয়াশিংটনের চেয়েও অনেক বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে চীনের বহরে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর পর্যালোচিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনা নৌবাহিনীর বহরে বর্তমানে চার শতাধিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন রয়েছে। জাহাজের সংখ্যার এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বেইজিংয়ের নৌবহর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। দেশটি বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা করার পাশাপাশি চতুর্থ আরেকটি রণতরী তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, চীনের নির্মাণাধীন পরবর্তী বিমানবাহী রণতরীটি পারমাণবিক শক্তিতে চালিত হতে পারে। আধুনিক সামরিক ইতিহাসে শান্তিকালীন সময়ে এটি অন্যতম বৃহৎ নৌবাহিনী সম্প্রসারণের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এশিয়ার বিস্তীর্ণ জলসীমা জুড়ে চীনের সামরিক তৎপরতা এখন অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ছাড়াও ফিলিপিন্সের পূর্বাঞ্চল ও জাপানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়মিত টহল দিচ্ছে চীনা যুদ্ধজাহাজ। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং এডেন উপসাগরেও নিজেদের সুদৃঢ় নৌবহর নিয়মিতভাবে মোতায়েন রাখছে দেশটি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাইওয়ানের চারপাশের জলসীমায় সাধারণ সময়েই প্রায় ছয়টি চীনা যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করে। এছাড়া ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে এই উপস্থিতি আরও কয়েকগুণ বেশি থাকে।

কেবল যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই চীনের মূল লক্ষ্য নয়, বরং নিজেদের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা। দেশের উপকূলীয় চারপাশের জলসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের দাবি আরও জোরালো করতে চায় বেইজিং। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে মার্কিন বাহিনীকে কার্যকরভাবে দূরে রাখাও এই সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনের এই দ্রুতগতির নৌবহর প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।