আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর চাপ আরও তীব্র করার লক্ষ্যে দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক মাস ধরে চলমান নৌ অবরোধের পাশাপাশি এবার স্থলপথেও উন্নত অস্ত্র এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নানা সরঞ্জাম প্রবেশ ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। ফ্লোরিডার টাম্পায় সদর দপ্তর স্থাপন করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গত ৭ নভেম্বর প্রকাশিত ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই বিশেষ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে এই টাস্কফোর্স তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত দ্বৈত প্রযুক্তি এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধ করাই এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব। বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় এমন প্রযুক্তি ও সরঞ্জামই দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ওয়াশিংটন তাদের চাপ অব্যাহত রেখেছে। এর আগে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং প্রচলিত সামরিক শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিল। এছাড়া নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগর দিয়ে দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেল বিক্রিও দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এত কিছুর পরও মার্কিন নীতিনির্ধারকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তেহরানকে অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে গণ্য করছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ইরানের কাছে সব ধরনের অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করতে চায় ওয়াশিংটন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের পরিধি আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।




































