ভারতের চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে উড়ন্ত অবস্থায় বিমানের জানালার ভেতরের কাচ ভাঙার অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রীর বিরুদ্ধে। কেবিন ক্রুর একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত ৭ জুন চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট এআই-১৮৭৯ দিল্লিতে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিমানের জানালার ভেতরের কাচ ভেঙে ফেলেন এবং কেবিন ক্রুদের বারবার সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেন।
বিমান সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীটিকে মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি নির্দেশনা মানেননি। পরে ককপিট ক্রুরা নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে অবতরণের আগেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করেন।
বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করার পর ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, ৭ জুন চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট এআই-১৮৭৯-এ এক অশৃঙ্খল যাত্রীকে ঘিরে একটি ঘটনা ঘটে। তবে পুরো ফ্লাইটে কোনো সময়ই যাত্রী, ক্রু বা বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি এবং বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন আচরণের ক্ষেত্রে এয়ার ইন্ডিয়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। বিষয়টি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও জানানো হয়েছে।
এক বিমানবন্দর কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর অভিযুক্ত যাত্রী বারবার ক্ষমা চাইতে শুরু করেন। তবে তার আচরণকে ‘অশৃঙ্খল’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, তা এখন এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ কমিটি পর্যালোচনা করছে।
ভারতের ২০১৭ সালের সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (সিএআর) অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত করে থাকে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী যাত্রীকে ‘অশৃঙ্খল যাত্রী’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তার বিরুদ্ধে উড়োজাহাজ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিটি সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় পায়। এ সময়ের মধ্যে এয়ারলাইন চাইলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ওপর ৩০ দিনের অস্থায়ী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি

























