ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু Logo উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে: বিশ্ব ব্যাংক Logo মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ Logo ভিভো ভি৮০ আসছে রাইজ অরেঞ্জের নতুন আকর্ষণে! Logo রাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী Logo মহাকাশে চালু হয়েছে গুগলের এআই, লিখেছে কবিতাও Logo উদযাপিত হলো হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী Logo জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক অধ্যাপক মানছুরকে যোগদান না করতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের হুমকি Logo প্রকৃতির পালাবদলে বদলে যাচ্ছে শীতের চিরচেনা রূপ Logo স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

আর্থিক কেলেঙ্কারি ও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ নানান অভিযোগে জবিরিইউ সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার

আর্থিক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাজির চেষ্টা, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনাস্থা ও অন্যান্যদের মৌখিক সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জবিরিইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংগঠনের বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অর্থ দাবি, সংগঠনের প্যাডের অননুমোদিত ব্যবহার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড জবিরিইউর গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম নোটিশের জবাবে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে দায়িত্ব পালনের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি, তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি।

জবিরিইউ আরও জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনাস্থার অভিযোগ ও অন্যান্যদের মৌখিক সম্মতিতে অর্থাৎ কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিতে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কারের পর মো. জাহাঙ্গীর আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির নাম, পরিচয়, লোগো, প্যাড বা অন্য কোনো সাংগঠনিক উপকরণ ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তিনি সংগঠনের নাম বা প্যাড ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা, যোগাযোগ, সুপারিশ কিংবা আর্থিক বা অনার্থিক লেনদেনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের লেনদেন করলে এর দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি বহন করবে না।

মাহমুদ/জবি

জনপ্রিয়

ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু

আর্থিক কেলেঙ্কারি ও স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ নানান অভিযোগে জবিরিইউ সভাপতি জাহাঙ্গীর বহিষ্কার

প্রকাশিত ০১:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আর্থিক অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাজির চেষ্টা, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনাস্থা ও অন্যান্যদের মৌখিক সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জবিরিইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংগঠনের বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অর্থ দাবি, সংগঠনের প্যাডের অননুমোদিত ব্যবহার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ-সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড জবিরিইউর গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের অভিযোগে এর আগেও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথম নোটিশের জবাবে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজেকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে দায়িত্ব পালনের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় নোটিশের কোনো জবাব তিনি দেননি, তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি।

জবিরিইউ আরও জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা মণ্ডলীর উপস্থিতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত অনাস্থার অভিযোগ ও অন্যান্যদের মৌখিক সম্মতিতে অর্থাৎ কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিতে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বহিষ্কারের পর মো. জাহাঙ্গীর আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির নাম, পরিচয়, লোগো, প্যাড বা অন্য কোনো সাংগঠনিক উপকরণ ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তিনি সংগঠনের নাম বা প্যাড ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা, যোগাযোগ, সুপারিশ কিংবা আর্থিক বা অনার্থিক লেনদেনের চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের লেনদেন করলে এর দায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি বহন করবে না।

মাহমুদ/জবি