অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা লাভ করেছে। ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ এজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ ধরে এই বিষয়গুলো সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সরকারের এই মেয়াদে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট সেবার অনুমতি পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি অংশীদারি কমানোর উদ্যোগ এবং কর অব্যাহতির সুবিধা পুনর্বহাল নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা পিএসপি হিসেবে কাজ করার অনাপত্তি সনদ লাভ করে। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা ২০২১ সালে এর জন্য আবেদন করেছিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এই অনুমোদন পেয়েছে। এর বাইরে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড চলতি বছরের শুরুর দিকে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা ২০০৯ সালে আবেদন করলেও রাজনৈতিক কারণে বিগত সরকারগুলোর আমলে তা আটকে ছিল।
অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের অক্টোবর মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের পাঁচ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল করে, যা ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এনবিআর জানিয়েছে, অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মতো নিয়ম মেনেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের এপ্রিল মাসে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন অধ্যাদেশ জারির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে ব্যাংকে সরকারের অংশীদারি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর সহকর্মীদের বিরুদ্ধে চলা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলাগুলো বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হওয়া নিয়েও নানামুখী আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা আবেদন যথাযথ নিয়ম মেনেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নন এবং সেখানে তাঁর কোনো শেয়ারও নেই।
তবে এই ঘটনাগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বার্থের সংঘাত ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপে জনগণের মনে সংশয় তৈরি হতে পারে এবং আস্থাহানি ঘটে। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানে এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা ও স্বচ্ছতা অবলম্বন করা উচিত ছিল যাতে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাতের সুযোগ না থাকে।





































