ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে ৬৬ শতাংশ মানুষের Logo রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: এক আম্মার, একের পর এক বিতর্ক Logo দিল্লিতে গভীর রাতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো বাড়ি-মসজিদ Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাকিস্তান: শাহবাজ Logo গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা Logo রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনের আড়ালে চলত মাদক কারবার Logo গাজাগামী ফ্লোটিলায় নির্যাতনে বেন-গভিরসহ ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে মামলা Logo বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ, ঘুরিয়ে দেওয়া হলো ৫ ফ্লাইট Logo ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই কার্যকরী পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র আকার ধারণ করা এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বনেতৃবৃন্দের জোরালো ভূমিকা পালনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রধানত জোর দেওয়া হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই পরিবেশ সৃষ্টির ওপর, যাতে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা সেখানে স্বাধীনভাবে ফিরে যেতে পারে। এছাড়া, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করেছেন তিনি। সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান না টানলে এর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর বোঝা বহন করে চললেও, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারের মাধ্যমেই সম্ভব বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এবং বিশ্ব মোড়লদের এই বিষয়ে আরও বেশি সোচ্চার ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায় বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধানরা বাংলাদেশের এই প্রস্তাবগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তারা স্বীকার করেন যে, একা বাংলাদেশের পক্ষে এত বিশাল জনসংখ্যার দীর্ঘস্থায়ী দায়িত্ব বহন করা অসম্ভব এবং এর জন্য সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এই পার্শ্ব-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আরও একবার জোরালোভাবে স্থান পেল বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

জনপ্রিয়

নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে ৬৬ শতাংশ মানুষের

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত ০৬:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই কার্যকরী পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র আকার ধারণ করা এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বনেতৃবৃন্দের জোরালো ভূমিকা পালনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রধানত জোর দেওয়া হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই পরিবেশ সৃষ্টির ওপর, যাতে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা সেখানে স্বাধীনভাবে ফিরে যেতে পারে। এছাড়া, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করেছেন তিনি। সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান না টানলে এর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীর বোঝা বহন করে চললেও, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল মিয়ানমারের মাধ্যমেই সম্ভব বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এবং বিশ্ব মোড়লদের এই বিষয়ে আরও বেশি সোচ্চার ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায় বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রধানরা বাংলাদেশের এই প্রস্তাবগুলোর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তারা স্বীকার করেন যে, একা বাংলাদেশের পক্ষে এত বিশাল জনসংখ্যার দীর্ঘস্থায়ী দায়িত্ব বহন করা অসম্ভব এবং এর জন্য সম্মিলিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এই পার্শ্ব-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আরও একবার জোরালোভাবে স্থান পেল বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে।