অপরাধ ডেস্ক: শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে অঙ্কিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা সরাসরি নামঞ্জুর করেন।
এর আগে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার লিখিত আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের প্রার্থনা করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির মূল ফটকের পাশের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিটি নষ্ট করার চেষ্টা চালায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের এক দল তরুণ। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারীকে প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাতে বাধা দেয়। অভিযুক্তরা ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানোর কথা বলে সেখানে স্লোগান দিতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার জেরে শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মাঝে শত্রুতা তৈরি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর আগে মামলার প্রাথমিক শুনানির পর আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই কারাবাসের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানকার দেওয়ালে দেশের বরেণ্য ও গুণী ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখা বিশিষ্টজনদের স্মরণে এই দেয়ালচিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই চিত্রকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং এর জের ধরেই প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার আকস্মিক এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।






































