ফিচার ডেস্ক: রূপকথা ও পপ সংস্কৃতিতে ডাইনিদের ঝাড়ুতে চড়ে আকাশে ওড়ার চিত্রটি অত্যন্ত পরিচিত হলেও এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও ধর্মান্ধতার এক দীর্ঘ অন্ধকার অধ্যায়। ঘর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত এই সাধারণ গৃহস্থালী বস্তুটি কীভাবে অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার প্রতীকে পরিণত হলো, তার পেছনে রয়েছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদিকাল থেকেই ঝাড়ু তৈরির উপাদান নারীদের গৃহস্থালীর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর সঙ্গে ওড়ার সম্পর্ক তৈরির পেছনে রয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট।
ইতিহাসের নথিপত্র অনুযায়ী, ঝাড়ুতে চড়ে উড়ার অপরাধে প্রথম স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন সেন্ট-জার্মেইন-এন-লে এলাকার যাজক গিয়োম এডেলিন। ১৪৫৩ সালে ডাইনিবিদ্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর নির্মম নির্যাতনের মুখে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তিনি ঝাড়ুতে চড়ে আকাশে উড়তেন। এরও আগে পঞ্চদশ শতকের একটি পাণ্ডুলিপিতে ঝাড়ু বা লাঠির ওপর চড়ে নারীদের উড়ার প্রাচীনতম চিত্র পাওয়া যায়। সে সময় ক্যাথলিক চার্চের চোখে ধর্মদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত নারীদের ভয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে এসব মাধ্যম ব্যবহার করা হতো।
গবেষকদের মতে, এর পেছনে প্রাচীন পৌত্তলিকদের উর্বরতা সম্পর্কিত আচার-অনুষ্ঠানেরও ভূমিকা রয়েছে। মধ্যযুগের কৃষকরা ফসলের ফলন বৃদ্ধির আশায় খড় রাখার বাঁশ বা ঝাড়ুকে দুই পায়ের মাঝে চেপে লাফিয়ে লাফিয়ে নাচত, যা ব্রুমস্টিক ড্যান্স নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ধর্মীয় গোঁড়ামির যুগে সাধারণ কৃষকদের এই নির্দোষ লোকজ আচারকে ডাইনিদের শয়তানের উপাসনা ও উড়ার গোপন সংকেত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
এছাড়া ডাইনিদের উড়ন্ত যাত্রার পেছনে ভেষজবিদ্যা ও হ্যালুসিনেটরি মলমের একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। মধ্যযুগের নারীরা ডেডলি নাইটশেড ও হেনবেনের মতো বিষাক্ত উদ্ভিদ ব্যবহার করে গোপন মলম তৈরি করতেন, যা ট্রোপেন অ্যালকালয়েডের প্রভাবে শরীরে বিভ্রম ও ওড়ার অনুভূতি তৈরি করত। ত্বকের মাধ্যমে শোষিত এই তেলের প্রভাবে তারা মাধ্যাকর্ষণ অতিক্রম করে ভেসে থাকার অবাস্তব অনুভূতি পেতেন।
ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অতীতে গৃহিণীরা ঘরের বাইরে গেলে দরজায় ঝাড়ু দাঁড় করিয়ে রেখে যেতেন, যা বোঝাত ঘরের মালিক বাড়িতে নেই। মানুষের এই সাধারণ অভ্যাসের সঙ্গে লোককথা ও ধর্মীয় কুসংস্কার যুক্ত হয়ে ডাইনিদের ঝাড়ুতে চড়ে উড়ে বেড়ানোর এই কাল্পনিক কিংবদন্তি রূপ লাভ করেছে।





































