স্বাস্থ্য ডেস্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেইশন মূলত আঘাত কিংবা সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। কোষে কোনো ক্ষতি হলে শরীর সাইটোকাইন নামক প্রোটিন নিঃসরণ করে ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে এবং ক্ষত নিরাময় করে। তবে জীবনযাত্রার ত্রুটি এবং পরিবেশগত নানা কারণে এই প্রদাহ অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রূপ নেয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের লক্ষণগুলো এতই সূক্ষ্ম হয় যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সহজে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রনিক ইনফ্লামেইশনের ফলে শরীর অনবরত সাইটোকাইন তৈরি করতে থাকে, যা সুস্থ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, অন্ত্রের রোগ এবং স্মৃতিভ্রংশ রোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই পেশি বা পুরো শরীরে অনবরত ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ এবং ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো উপসর্গগুলো এর পেছনে কাজ করে।
মার্কিন চিকিৎসক ডা. উইলিয়াম ডব্লিউ লি এবং খেলাধুলা ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. বেনেডিক্ট ইফেডি জানান, এই ধরনের প্রদাহের কারণে হজমের জটিলতা, হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। এছাড়া মাংসপেশি দুর্বল লাগা, পিঠ ও কোমরের নিচে ব্যথা, ত্বকে ঘনঘন র্যাশ এবং লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা সিআরপি নামক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে প্রদাহের উপস্থিতি নিশ্চিত করে থাকেন।
শরীরের অভ্যন্তরীণ এই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও অ্যালকোহল পরিহার করা উচিত। এছাড়া নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো প্রদাহের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।





































