ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দুর্গোৎসবের আনন্দ কখনো ফিকে হয় না: নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo মঙ্গল অভিযানের স্বপ্নে আইইউবিতে ৩০ কিশোরীর ‘স্পেস মিশন’ Logo এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে: আইনমন্ত্রী Logo ইশরাকের বিষয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী Logo স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, অতঃপর… Logo বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ, দিলেন যে বার্তা Logo ‘ডুমজবিং’: অপছন্দের চাকরিতে আটকে থাকার অদৃশ্য ফাঁদ Logo আইফোন ডুও’র প্রি-অর্ডার: বাজার দখলে অ্যাপলের নতুন জুয়া Logo বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে

স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, অতঃপর…

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এক কাল্পনিক নারীর প্রেমে পড়ে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী এদিমার মার্টিনস। পেশায় রাজমিস্ত্রি মার্টিনস ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করা ওই কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে, যখন মারানহাও রাজ্যের বাসিন্দা মার্টিনস সামাজিক মাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্ট দেখতে পান। মায়ের মৃত্যুর পর চরম একাকীত্বে ভোগা মার্টিনস ওই অ্যাকাউন্টের ভিডিওতে খামারবাড়িতে গ্রামীণ জীবনযাপনের দৃশ্য ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেখে আকৃষ্ট হন। একপর্যায়ে তিনি ওই কাল্পনিক নারীকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করার সুদূর প্রসারী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এই অন্ধ মোহের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

গত নয় অক্টোবর বিক্রি করা সম্পত্তির অর্থ হাতে নিয়ে তিনি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হোরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ বাসভ্রমণ শেষে এগারো অক্টোবর গন্তব্যে পৌঁছে তিনি স্থানীয়দের কাছে ওই নারীর সন্ধান চান। কিন্তু কেউই তাঁকে চিনতে পারেনি এবং স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশন জানায় চরিত্রটি সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তিনির্ভর। অ্যাকাউন্টটির পেছনের ব্যক্তি পরে এআই দিয়ে চরিত্র তৈরির কথা স্বীকার করলেও মার্টিনসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সব অর্থ হারিয়ে সেই শহরে অসহায় হয়ে পড়ার পর পৌর কর্তৃপক্ষ ও সমাজকর্মীরা মার্টিনসের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা তাঁকে খাবার ও গোসলের ব্যবস্থার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার বাসের টিকিট প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি একজন আত্মীয়ের আশ্রয়ে থাকলেও ভবিষ্যতে আবারও ভালোবাসার মানুষ খুঁজতে সেই শহরে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। সম্পূর্ণ প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর পরও তাঁর এই অদম্য মনোভাব মানুষের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

দুর্গোৎসবের আনন্দ কখনো ফিকে হয় না: নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত

স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, অতঃপর…

প্রকাশিত ১২:৫২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এক কাল্পনিক নারীর প্রেমে পড়ে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী এদিমার মার্টিনস। পেশায় রাজমিস্ত্রি মার্টিনস ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করা ওই কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে, যখন মারানহাও রাজ্যের বাসিন্দা মার্টিনস সামাজিক মাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্ট দেখতে পান। মায়ের মৃত্যুর পর চরম একাকীত্বে ভোগা মার্টিনস ওই অ্যাকাউন্টের ভিডিওতে খামারবাড়িতে গ্রামীণ জীবনযাপনের দৃশ্য ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেখে আকৃষ্ট হন। একপর্যায়ে তিনি ওই কাল্পনিক নারীকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করার সুদূর প্রসারী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এই অন্ধ মোহের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

গত নয় অক্টোবর বিক্রি করা সম্পত্তির অর্থ হাতে নিয়ে তিনি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হোরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ বাসভ্রমণ শেষে এগারো অক্টোবর গন্তব্যে পৌঁছে তিনি স্থানীয়দের কাছে ওই নারীর সন্ধান চান। কিন্তু কেউই তাঁকে চিনতে পারেনি এবং স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশন জানায় চরিত্রটি সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তিনির্ভর। অ্যাকাউন্টটির পেছনের ব্যক্তি পরে এআই দিয়ে চরিত্র তৈরির কথা স্বীকার করলেও মার্টিনসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সব অর্থ হারিয়ে সেই শহরে অসহায় হয়ে পড়ার পর পৌর কর্তৃপক্ষ ও সমাজকর্মীরা মার্টিনসের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা তাঁকে খাবার ও গোসলের ব্যবস্থার পাশাপাশি বাড়ি ফেরার বাসের টিকিট প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি একজন আত্মীয়ের আশ্রয়ে থাকলেও ভবিষ্যতে আবারও ভালোবাসার মানুষ খুঁজতে সেই শহরে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। সম্পূর্ণ প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর পরও তাঁর এই অদম্য মনোভাব মানুষের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।