অর্থনীতি ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে বিকল্প পরিবহন রুটে বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা ফুরিয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসবিসির ‘ফিউচার ফোরাম’ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি। বর্তমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং জ্বালানি পরিবহন সচল রাখতে এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর বিশ্ব কতটা নির্ভরশীল। অতীতে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই বিশেষ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো বাধ্য হয়ে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত জ্বালানি পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণ করছে।
এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, এই অবকাঠামোগত খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধ চলাকালেও এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে। এই অঞ্চলের দেশগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও উন্নত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্মাণ শিল্প বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিড-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কে বর্তমানে বিশাল অংকের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে চলতি বছর বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকোচন হতে পারে, যদিও পরবর্তীতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা জনিত কারণে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবের একটি স্পষ্ট নিদর্শন।





































