অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান সরকারি মূল্যে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। গ্যাস মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার কমিশন বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের ওপর মুনাফা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা। ব্যাংকঋণের সুদ, পরিবহন খরচ, কারখানা পরিচালনা ব্যয় এবং নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কথা দাম বাড়ানোর যুক্তিতে তুলে ধরেছে অপারেটরগুলো।
কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজি মজুত ও বোতলজাত করার খরচে ভিন্নতা রয়েছে। ওমেরা এলপিজি ১২ টাকা ২৫ পয়সা, ফ্রেশ এলপিজি ২৫ টাকা, ডেল্টা এলপিজি ৩০ টাকা এবং পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সাড়ে ১৯ টাকা করার প্রস্তাব দাখিল করেছে। এছাড়া বিভিন্ন খাতে ব্যয় ও মুনাফা বাড়িয়ে ওমেরা ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি জানিয়েছে, যা বর্তমান সরকারি দামের চেয়ে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি।
ব্যয় বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে দায়ী করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াব। লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি কোম্পানি নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং সরকার তা যাচাই করে দেখবে। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি না পাওয়ার বিষয়টি তাদের মনিটরিং করার দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এলপিজির এই দাম ও বিভিন্ন খাতের খরচ পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করতে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। এর আগে গত অক্টোবরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল কমিশন। তবে বাজারে এর চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে।
হাই কোর্টের নির্দেশনায় ২০২১ সাল থেকে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। বর্তমানে সৌদি আরামকোর প্রতি মাসের চুক্তিমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। অপারেটরদের পাশাপাশি পরিবেশকরাও তাদের কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে।






































