ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ডিজিটাল নিরাপত্তা কি শুধু সচেতন ও বিত্তবানদের জন্য?

মতামত ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বর্তমানে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অপরিচিত বা স্প্যাম কল থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষ সাধারণত বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপের ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত মাধ্যম সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক সময় এসব অ্যাপের বাড়তি সুবিধা পেতে অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে মোবাইল ফোনে সিম নিবন্ধনের নাম প্রদর্শনের সরকারি নির্দেশ জারির পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপে থার্ড-পার্টি অ্যাপের সাহায্য ছাড়াই ব্যবহারকারীরা কলকারীর পরিচয় জানতে পারবেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের টেলিকম সেবায় এমন কোনো ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে, যেখানে আলাদা অ্যাপ বা অর্থ ব্যয় ছাড়াই সবাই নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয় নাকি সেবা প্রদানকারী সংস্থার দায়িত্ব, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার সঙ্গে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সাক্ষরতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। সাক্ষরতা মানুষকে অনলাইন প্রতারণা ও অচেনা পরিবেশের ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে। তবে শুধু ব্যবহারকারীকে সচেতন করে দায়িত্ব এড়ানো যায় না, বরং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। সচেতনতা মানুষকে সংকট চিনতে শেখালেও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে কেউ যেন সহজে বিপদে না পড়েন।

নিরাপত্তার জন্য যখন বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়, তখন তা আর সর্বজনীন অধিকার থাকে না বরং বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়। তাই টেলিকম অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নৈতিক দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিটিআরসি বা সরকারের নীতিগত উদ্যোগে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কলারের পরিচয় শনাক্তের মতো মৌলিক সুবিধা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

জনপ্রিয়

বার্সেলোনার হয়ে রেয়ালের বিপক্ষে খেলতে উন্মুখ জেসুস

ডিজিটাল নিরাপত্তা কি শুধু সচেতন ও বিত্তবানদের জন্য?

প্রকাশিত ০১:০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বর্তমানে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অপরিচিত বা স্প্যাম কল থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষ সাধারণত বিভিন্ন থার্ড-পার্টি অ্যাপের ওপর নির্ভর করে থাকে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত মাধ্যম সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক সময় এসব অ্যাপের বাড়তি সুবিধা পেতে অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা ডিজিটাল নিরাপত্তায় এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে মোবাইল ফোনে সিম নিবন্ধনের নাম প্রদর্শনের সরকারি নির্দেশ জারির পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপে থার্ড-পার্টি অ্যাপের সাহায্য ছাড়াই ব্যবহারকারীরা কলকারীর পরিচয় জানতে পারবেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের টেলিকম সেবায় এমন কোনো ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে, যেখানে আলাদা অ্যাপ বা অর্থ ব্যয় ছাড়াই সবাই নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয় নাকি সেবা প্রদানকারী সংস্থার দায়িত্ব, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার সঙ্গে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম সাক্ষরতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। সাক্ষরতা মানুষকে অনলাইন প্রতারণা ও অচেনা পরিবেশের ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে। তবে শুধু ব্যবহারকারীকে সচেতন করে দায়িত্ব এড়ানো যায় না, বরং কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি। সচেতনতা মানুষকে সংকট চিনতে শেখালেও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে কেউ যেন সহজে বিপদে না পড়েন।

নিরাপত্তার জন্য যখন বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়, তখন তা আর সর্বজনীন অধিকার থাকে না বরং বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়। তাই টেলিকম অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নৈতিক দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিটিআরসি বা সরকারের নীতিগত উদ্যোগে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কলারের পরিচয় শনাক্তের মতো মৌলিক সুবিধা সবার জন্য সহজলভ্য করা সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।