লাইফস্টাইল ডেস্ক: সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা এবং বোঝাপড়া। সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা কিংবা বুদ্ধিমত্তার মিল যুগলদের পথচলা সহজ করলেও মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে যে সঙ্গীকে সমান মাপে ভালোবাসতে হবে কি না। মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কে গভীর টান থাকা জরুরি হলেও ভালোবাসার পরিমাণ দাঁড়িপাল্লার মাপে নিখুঁতভাবে সমান হওয়া অসম্ভব।
ইউনিভার্সিটি অব হাইফার অধ্যাপক ড. অ্যারন বেন-জেভ তার ‘দ্য আর্ক অব লাভ’ বইতে উল্লেখ করেছেন যে ভালোবাসার পরিমাপে সামান্য তারতম্য মানেই সম্পর্কটি বিষাক্ত নয়। অনেকেই সঙ্গীর চেয়ে নিজেকে বেশি ভালোবাসার অভিযোগে ভুগে মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করেন, আবার কেউ সমপরিমাণ ভালোবাসা না দিতে পেরে অপরাধবোধে ভোগেন। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, সম্পর্কের গভীরতা টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট হলে সামান্য অসমতা কোনো সমস্যা তৈরি করে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্কে ভালোবাসার তারতম্য যখন হীনমন্যতা বা অহংকার তৈরি করে, তখনই সম্পর্কে ফাটল ধরার ঝুঁকি বাড়ে। আবেগীয় বিনিয়োগ বা মায়া কম থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় অদৃশ্য ক্ষমতা পেয়ে থাকেন এবং হারানোর ভয় না থাকায় তৃতীয় ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সুযোগ খোঁজেন। তবে নৈতিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা থাকলে এই ধরনের প্রলোভন সামলে নেওয়া সম্ভব হয়।
ভালোবাসা কোনো পরিমাপযোগ্য পণ্য নয় এবং সামান্য ব্যবধান সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করতে পারে। বড় শূন্যতা তৈরি হয় তখনই, যখন একজন মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসলেও অন্যজন শুধু তা উপভোগ করেন। শেষ পর্যন্ত নিখুঁত গাণিতিক হিসাব বা প্রতিযোগিতা নয়, বরং দুজনের কাছেই সম্পর্কের গুরুত্ব সমান হওয়াই একটি সফল সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি।





































