ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo একদিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী Logo টাইগার শ্রফ নয়, হামলাকারীদের নিশানায় ছিলেন আমির, কেন বদলাল টার্গেট? Logo অস্থিরতা দূর করার উপায় Logo ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয়: সামনে বৈরি সংসদ ও বিভক্ত দেশের চ্যালেঞ্জ Logo আরও একবছর অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার Logo ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা-উদ্বেগ, অপসারণের দাবি Logo ‘ভারতীয় শীর্ষ গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক’ Logo ‘মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্যবিয়ে সমাধান নয়’ Logo ‘মিথ্যায়’ ভর করে শাহাদাত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন: এনসিপি Logo এক দিনের জনপ্রতিনিধি হলে শিশুদের জন্য কাজ করতাম

‘মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্যবিয়ে সমাধান নয়’

ডেস্ক রিপোর্ট: কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের বশে অনেক পরিবার বাল্যবিয়েকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বেছে নেয়। তবে এই ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে মূলত কিশোরীর শিক্ষা, স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথকে সংকুচিত করে তোলে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফিন সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় এই মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যেসব পরিবার কন্যাসন্তানকে নিরাপত্তা দিতে নিজেদের অসহায় মনে করে, তারা অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করে থাকে।

অধ্যাপক লায়লা আশরাফিনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, পারিবারিক পর্যায়ে মেয়েশিশুর ক্ষমতায়ন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি অবহেলা করা হয়। আর এই উদাসীনতাও সমাজে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হিসেবে কাজ করে। অথচ অল্প বয়সে বিয়ে দিলেই যে মেয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে গেছে, এমন ধারণা পোষণ করার কোনো অবকাশ নেই। নতুন সংসারে পা রাখার পর এই কম বয়সী মেয়েরা নিজেদের মতামত প্রকাশ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞ এই শিক্ষক মনে করেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে তড়িঘড়ি করে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে পরিবারগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর পরিবর্তে কন্যাসন্তানের জন্য একটি নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরি এবং তার যথাযথ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, তাদের নিজেদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার এবং ব্যক্তিগত বিকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার নিজের ইচ্ছা এবং মানসিক অগ্রগতির চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। মূলত সচেতনতার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার ভুল ধারণার কারণেই পরিবারগুলো এই ক্ষতিকর সামাজিক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়ে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং কিশোরীদের আত্মানির্ভরশীল করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয়

একদিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী

‘মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাল্যবিয়ে সমাধান নয়’

প্রকাশিত ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের বশে অনেক পরিবার বাল্যবিয়েকে একমাত্র সমাধান হিসেবে বেছে নেয়। তবে এই ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে মূলত কিশোরীর শিক্ষা, স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথকে সংকুচিত করে তোলে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক লায়লা আশরাফিন সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় এই মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যেসব পরিবার কন্যাসন্তানকে নিরাপত্তা দিতে নিজেদের অসহায় মনে করে, তারা অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করে থাকে।

অধ্যাপক লায়লা আশরাফিনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, পারিবারিক পর্যায়ে মেয়েশিশুর ক্ষমতায়ন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি অবহেলা করা হয়। আর এই উদাসীনতাও সমাজে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হিসেবে কাজ করে। অথচ অল্প বয়সে বিয়ে দিলেই যে মেয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে গেছে, এমন ধারণা পোষণ করার কোনো অবকাশ নেই। নতুন সংসারে পা রাখার পর এই কম বয়সী মেয়েরা নিজেদের মতামত প্রকাশ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞ এই শিক্ষক মনে করেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে তড়িঘড়ি করে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে পরিবারগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর পরিবর্তে কন্যাসন্তানের জন্য একটি নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরি এবং তার যথাযথ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, তাদের নিজেদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার এবং ব্যক্তিগত বিকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার নিজের ইচ্ছা এবং মানসিক অগ্রগতির চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। মূলত সচেতনতার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার ভুল ধারণার কারণেই পরিবারগুলো এই ক্ষতিকর সামাজিক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়ে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং কিশোরীদের আত্মানির্ভরশীল করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।