অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণছাড়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে অর্থছাড় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য প্রথম প্রান্তিকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১১৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার।
অর্থছাড় কমে যাওয়ার বিপরীতে পুরোনো ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ছাড় হওয়া ঋণের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে আগের নেওয়া ঋণের পরিশোধ বাবদ। এর মধ্যে শুধু আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ১৯৮ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ গেছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার।
বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিসহ ভারত, চীন, রাশিয়া এবং এআইআইবি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই ছয় প্রধান উন্নয়ন সহযোগী ও দেশের পক্ষ থেকে নতুন প্রতিশ্রুতি না আসায় নতুন কোনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই দেশ ও সংস্থাগুলো প্রতিশ্রুতি না দিলেও পূর্বে নেওয়া ঋণের অর্থছাড় প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, অতীতের মেগা প্রকল্প ও বাজেট সহায়তার গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারের নগদ ডলারের জোগান বাড়াতে প্রকল্পের পরিবর্তে বাজেট সহায়তার দিকে বেশি জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় কম সুদের বিদেশি ঋণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।





































