ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত ছায়ানট মিলনায়তনে লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদকে স্মরণ করে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আসরে শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় আব্বাসউদ্দীনের অমর সৃষ্টি লোকসংগীত ও ইসলামী গান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই শিল্পীর বর্ণাঢ্য জীবন এবং সংগীত ভাণ্ডারে তাঁর বহুমুখী অবদানের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন যে, আব্বাসউদ্দীন আহমদ দেশের লোকগীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। অঞ্চলভিত্তিক লোকগানকে সুর ও পরিবেশনার জাদুতে তিনি সংহতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীকে রূপান্তর করেছিলেন। গ্রামীণ পরিমণ্ডলের এই গানগুলোকে নাগরিক সমাজের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সবচেয়ে অগ্রগণ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আব্বাসউদ্দীনের গভীর বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করা হয়। সারওয়ার আলী জানান যে, আব্বাসউদ্দীনের বারবার তাগিদ ও অনুপ্রেরণাতেই মূলত নজরুল ইসলাম বিখ্যাত সব ইসলামী গান রচনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। আজও ঈদের আগের রাতে বহুল প্রচলিত ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’ গানটির পেছনেও আব্বাসউদ্দীনের জোরালো প্রেরণা কাজ করেছিল।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে একে একে মঞ্চে আসেন বিশিষ্ট শিল্পীরা। প্রিয়ন্তু দেব, সুমন মজুমদার, শরিফা খাতুন ও বিমান চন্দ্র বিশ্বাসের মতো শিল্পীরা কালজয়ী বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদ, চন্দনা মজুমদার এবং কিরণ চন্দ্র রায়ের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় শ্রোতাপ্রিয় বহু লোকগান।
দশক পার হয়ে গেলেও আব্বাসউদ্দীনের গাওয়া ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’সহ অন্যান্য গানের আবেদন ও জনপ্রিয়তা আজও অম্লান রয়েছে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি এই শিল্পীর বহুমুখী সাধনা ও বাংলা সংগীতে তাঁর চিরস্থায়ী অবদান আরেকবার স্পষ্টভাবে স্মরণ করা হলো।




































