ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকার রাখতে হবে: জাতিসংঘে আইরিন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত মাপকাঠি কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। মানুষের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন, বৈষম্য কমানো এবং মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা কতটা হচ্ছে, তা দিয়ে প্রবৃদ্ধির মূল্যায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর কাঠামোগত সংস্কার, ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্রুত অল্প কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত হচ্ছে। এছাড়া সামরিক খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, ঋণের বিশাল বোঝা এবং তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষার পথকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা জানান যে, যুদ্ধসংঘাত, ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত চাপ এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এসব বহুমুখী সংকট উত্তরণে তারা আন্তর্জাতিক করব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

জনপ্রিয়

দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকার রাখতে হবে: জাতিসংঘে আইরিন খান

প্রকাশিত ০৫:৫২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত মাপকাঠি কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। মানুষের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন, বৈষম্য কমানো এবং মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা কতটা হচ্ছে, তা দিয়ে প্রবৃদ্ধির মূল্যায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর কাঠামোগত সংস্কার, ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্রুত অল্প কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত হচ্ছে। এছাড়া সামরিক খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, ঋণের বিশাল বোঝা এবং তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষার পথকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা জানান যে, যুদ্ধসংঘাত, ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত চাপ এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। এসব বহুমুখী সংকট উত্তরণে তারা আন্তর্জাতিক করব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।