অর্থনীতি ডেস্ক: রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত বিইআরসির গণশুনানি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে রূপ নেয়। এলপিজি সংকটের জন্য আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী কোম্পানিগুলোকে দায়ী করে পরিবেশক ও ডিলাররা গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দাবি করেন। অন্যদিকে ডিলারদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকে ‘মাফিয়া’ বলা হলে সভাকক্ষে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও দেশের প্রায় কোথাও ভোক্তারা এই দামে তা কিনতে পারছেন না। বাজারে ২৩০০ থেকে ২৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই সরবরাহে তীব্র সংকট চলছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান যে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ায় জাহাজভাড়া এবং সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কার্গো জাহাজের সংকটের কারণে চাহিদামতো গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা।
শুনানিতে অংশ নেওয়া মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা জানান, অতীতে কম দামে সিলিন্ডার বিক্রির অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আমদানির সক্ষমতা হারিয়েছে। তবে ডিস্ট্রিবিউটররা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন যে আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না করায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবেশকদের পক্ষ থেকে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি সিলিন্ডার পরিবহনের সময় পুলিশি হয়রানির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
বিনা খরচে বা কম দামে এলপিজি পাওয়ার দিন শেষ উল্লেখ করে কোম্পানিগুলো ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করেছে। অটোগ্যাস স্টেশন মালিকরাও বর্তমান লোকসান কাটাতে কমিশন বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানান। সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশন নতুন মূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ করবে বলে জানানো হয়েছে।
বাজারের চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং ভোক্তা পর্যায়ে সঠিক মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গণশুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে ডিলার ও আমদানিকারকদের মধ্যকার পারস্পরিক দোষারোপ এবং আস্থার সংকটের কারণে সাধারণ ভোক্তারা কীভাবে স্বস্তি পাবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বিইআরসি সকল পক্ষের মতামত বিবেচনা করে আইনানুগ ও বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।



































