রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন বা বিপ্লব নয়, বরং তরুণদের কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। অনুষ্ঠানে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জব ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়।
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, কেবল রাজনীতির নানা বিতর্কে মেতে থাকলে চলবে না, বরং প্রকৃত উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এছাড়া যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর সচেতনতা ও প্রচার চালানোর তাগিদ দেন।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন যে, গতানুগতিক উচ্চশিক্ষার পর তরুণরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে। তাই বেকারত্ব দূর করতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রয়োজনভিত্তিক ও কারিগরিমুখী করার পরামর্শ দেন তিনি। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাজ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও বৈষম্যের মতো নেতিবাচক বিষয়গুলো দূর করতে যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কেবল বড় কোম্পানির পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা কর্মক্ষম জনসংখ্যার সুবিধা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই দেশের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


































