ক্যাম্পাস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। গত সাত অক্টোবর অভিযুক্ত ছাত্রকে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে মারধর করার ঘটনাও ঘটে, যার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত আট অক্টোবর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে মেয়েদের অশালীন বার্তা পাঠানো ও প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের ছেলে হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আন্দোলনকারী এক ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে বাঁচাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ একটি কমিটি করেছেন যা নিরপেক্ষ হবে না। এছাড়া নিরপেক্ষ বিচার চাওয়ায় আটজন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে গত সাত অক্টোবর অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জানান যে তার ছেলেকে সহপাঠীরা মারধর করেছে। পরদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যাতে স্কুলের তিন শিক্ষক ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরকে রাখা হয়। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত ছাত্রসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্লাস থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের নিরাপত্তা, অভিযুক্তের বিচার এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটিসহ পাঁচ দফা দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান জানান যে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ রয়েছে এবং এক পক্ষ ছাত্রীদের হেনস্তা ও অন্য পক্ষ সেই ছেলেকে মারধর করেছে। তিনি আরও বলেন যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই পক্ষকেই সাময়িকভাবে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অধ্যক্ষ বলেন যে তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর কোনো আপত্তি থাকলে পুনরায় তদন্ত করা হবে। এই ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।





































